[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জামানত হারিয়েছেন ৬৫ শতাংশ প্রার্থী

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন    

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ৩৪৭ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন, যা মোট প্রার্থীর ৬৪ দশমিক ৮২ শতাংশ। জামানত হারানো এসব প্রার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী, জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া টাকা নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দেয়।

নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। অর্থাৎ শতাংশ হিসেবে কোনো প্রার্থী মোট ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম পেলে জামানত হারান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি এ নির্বাচনে অংশ নেয়। ২৯৯টি আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন।

ভোটের পরদিন ২৯৭টি আসনের সরকারি ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। পরে ৪ মার্চ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে কেন্দ্রভিত্তিক বিস্তারিত ফল প্রকাশ করা হয়। তবে ২৯৯টি আসনে ভোট হলেও আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়। এ দুই আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন। 

ক্ষমতায় আসা বিএনপির ২৯০ জন প্রার্থীর সবারই জামানত টিকে গেছে। তবে বিএনপি জোটের অন্য শরিক দলের প্রার্থীরা কম-বেশি জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে নির্বাচনে জিতে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়া গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের দলের ৯৪ প্রার্থীর মধ্যে ৯২ জনই জামানত হারান। এ কারণে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪৬ লাখ টাকা।

একই চিত্র দেখা গেছে গণসংহতি আন্দোলনের ক্ষেত্রেও। দলটির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেও তাঁর দলের বাকি ১৬ জন প্রার্থীই জামানত হারান। এতে দলটির গচ্চা গেছে ৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাবেক চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন। পরে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান। তবে এনডিএম থেকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা অন্য আটজন প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এ কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ টাকা।

বিএনপি জোটের আরেক শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক নির্বাচনে হারলেও নিজের জামানত রাখতে পেরেছেন। তবে তাঁর দলের অন্য ছয়জন প্রার্থী জামানত হারানোয় দলটির গচ্চা গেছে ৩ লাখ টাকা। এই জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ জয় পেলেও তাঁর দলের অন্য প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এতে ৫০ হাজার টাকা জমা গেছে কোষাগারে।

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর ২২৭ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারান। এতে দেড় লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে। এই জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন জামানত হারান। এতে ৪ লাখ টাকা গচ্চা গেছে দলটির।

জামায়াত জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪ জন প্রার্থীর ৯ জন, খেলাফত মজলিসের ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৫ জন, আমার বাংলাদেশ পার্টির ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ১৩ জন প্রার্থীর ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন জামানত হারান। এই ৬৮ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ায় সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।

দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি জামানত হারিয়েছে চরমোনাইর পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ দলের ২৫৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪৮ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এতে দলটির গচ্চা গেছে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির ১৯৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯০ জন জামানত হারান। তাদের থেকে ৯৫ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন জামানত হারান। এতে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা কোষাগারে জমা হয়েছে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৩০টি দলের মনোনীত সব প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এসব দলের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ৬৩ জন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ৪২ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের ৩৬ জন, বাসদের (মার্কসবাদী) ৩৩ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের ২৮ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ২২ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ২০ জন, জনতার দলের ২০ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের ২০ জন, গণফোরামের ২০ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ১৯ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ১৮ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ১৭ জন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ১৭ জন, বাংলাদেশ জাসদের ১৫ জন, আমজনতার দলের ১৫ জন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির ১৪ জন, জাতীয় পার্টির ১০ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের ৮ জন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির ৮ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ৬ জন, জাকের পার্টির ৫ জন, গণফ্রন্টের ৫ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৩ জন, ইসলামী ঐক্যজোটের ২ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ২ জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির ১ জন, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টির ১ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ১ জন এবং গণতন্ত্রী পার্টির ১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামানত হারানো এই ৪৮২ জন প্রার্থীর কাছ থেকে মোট ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।

এ ছাড়া ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ২১৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এখান থেকে নির্বাচন কমিশন পেয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত ফলাফল বিশ্লেষণে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ঢাকা জেলার ২০টি আসনে। এখানে ১৫৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আর সবচেয়ে কম জামানত হারিয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও বান্দরবান জেলায়। এই দুই জেলার তিনটি আসনে দুজন করে প্রার্থী জামানত হারান।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৫, কুমিল্লায় ৫৯, চাঁদপুরে ২৫, ফেনীতে ২০, নোয়াখালীতে ৩৫, লক্ষ্মীপুরে ২০, মেহেরপুরে ৩, কুষ্টিয়ায় ১৭, ঝিনাইদহে ১২, যশোরে ২৪, মাগুরায় ৭, নড়াইলে ১১, বাগেরহাটে ১৪, খুলনায় ২৬, সাতক্ষীরায় ১১, চট্টগ্রামে ৭৭, কক্সবাজারে ১০, খাগড়াছড়িতে ৭, রাঙামাটিতে ৬, বান্দরবানে ২, পঞ্চগড়ে ১১, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪, দিনাজপুরে ২৭, নীলফামারীতে ১৮, লালমনিরহাটে ১৬, রংপুরে ৩১, কুড়িগ্রামে ১৮, গাইবান্ধায় ২৮, বরগুনায় ১১, পটুয়াখালীতে ২০, ভোলায় ২১, বরিশালে ২১, ঝালকাঠিতে ১৪, পিরোজপুরে ৮, টাঙ্গাইলে ২৭, জামালপুরে ২৪, শেরপুরে ৫, ময়মনসিংহে ৩৭, নেত্রকোনায় ১৩, কিশোরগঞ্জে ৩৪, রাজবাড়ীতে ৮, ফরিদপুরে ১৯, গোপালগঞ্জে ২০, মাদারীপুরে ১৭, শরীয়তপুরে ১৫, মানিকগঞ্জে ১৩, মুন্সীগঞ্জে ১২, গাজীপুরে ৩২, নরসিংদীতে ২৯, নারায়ণগঞ্জে ৩৬, জয়পুরহাটে ৪, বগুড়ায় ২০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০, নওগাঁয় ২০, রাজশাহীতে ২০, নাটোরে ১৮, সিরাজগঞ্জে ২৭, পাবনায় ১৮, সুনামগঞ্জে ১২, সিলেটে ২০, মৌলভীবাজারে ১৪, হবিগঞ্জে ১৬ এবং ভোলায় ২১ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন