[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘ প্রহর, শেষ সম্বল ট্রাক-পিকআপ ভ্যানেই ঈদযাত্রা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বাস না পেয়ে ঈদযাত্রায় অনেকেই ট্রাক-পিকআপে চড়ে বাড়ি যাচ্ছেন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পুরান বাজারে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে তিন ধাপে শ্রমিকদের ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার প্রথম ধাপে ছুটি পেয়ে জেলার শ্রীপুরের শ্রমিকেরা বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসে উঠতে না পেরে অনেকেই ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি যাচ্ছেন।

দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মাওনা চৌরাস্তা, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, ১ নম্বর সিঅ্যান্ডবি, ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি, নতুন বাজার, এমসি বাজার, নয়নপুর, রঙ্গিলাবাজার ও জৈনাবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে প্রতিটি পয়েন্টে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ। বাসের জন্য সড়কের পাশে অপেক্ষা করছেন তারা।

ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জগামী যাত্রীর সংখ্যা বেশি। একই সঙ্গে ঢাকামুখী যাত্রীর সংখ্যাও চোখে পড়েছে। ঢাকার দিক থেকে আসা বেশির ভাগ বাসই যাত্রীতে ভরা। আসন খালি না থাকলেও শ্রীপুরের সড়কের পাশে অপেক্ষা করা অনেকেই ভিড় ঠেলে বাসে উঠছেন। উঠতে না পেরে কেউ কেউ পিকআপ ভ্যানে করে যাত্রা করছেন।

দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এসব সড়কে বড় কোনো যানজট দেখা যায়নি। তবে বাসস্টেশনগুলোতে যাত্রী তোলার সময় কিছু সময়ের জন্য যানবাহনের সারি থেমে থাকতে দেখা গেছে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের বেশির ভাগই গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় কাজ করেন। অনেকেই পরিবারসহ এখানে অস্থায়ীভাবে থাকেন। ঈদ এলে পরিবার নিয়ে বাড়ি যান। তবে যাত্রাপথে প্রায়ই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন ময়মনসিংহগামী যাত্রী মো. ইউসুফ। তিনি একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। প্রথম ধাপে ছুটি পেয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন, কিন্তু গাড়ি পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, বাসে আসন না পেলে পিকআপে করেও বাড়ি ফিরবেন।

বেশির ভাগ যাত্রী গাজীপুরের বিভিন্ন কলকারখানায় চাকরি করেন। ঈদে প্রতিবারই ঈদযাত্রার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাঁদের। আজ বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পুরান বাজারে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

আরেক শ্রমিক নাসরিন আক্তার বলেন, দুই সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় নিজের গ্রামে ঈদ করতে যাচ্ছেন। বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি একটি পিকআপে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় উঠেছেন।

মাওনা চৌরাস্তায় অপেক্ষা করা শ্রমিক শারফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। সঙ্গে ছোট শিশু থাকায় তিনি আসন ছাড়া যাত্রা করতে চান না।

জৈনাবাজার এলাকায় ট্রাকের পেছনে বসে যাত্রা করেছেন জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতে পারছেন, এটাই আনন্দ। বাসে আসন না থাকায় বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠেছেন।

মহাসড়কের পরিস্থিতি নিয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, মাস্টারবাড়ি, ওয়াপদা, নয়নপুর, এমসি বাজার ও জৈনাবাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে, যাতে সড়কে নিরাপত্তা থাকে। এ ছাড়া তিনটি ভ্রাম্যমাণ দল মহাসড়কে টহল দিচ্ছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলে বা কোনো সমস্যায় পড়লে হাইওয়ে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ঈদ উপলক্ষে হাইওয়ে পুলিশ বিশেষ নজরদারি করছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন