[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

পেকুয়ায় দেড় মাসেই ‘নাই’ আস্ত এক পাহাড়

প্রকাশঃ
অ+ অ-
পাহাড় কেটে সমতল করে ফেলা হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের জালিয়ারচাং এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

দেড় মাস আগেও এটি ছিল একটি আস্ত পাহাড়। বড় বড় গাছ আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়টি আশপাশের এলাকায় সবথেকে উঁচু হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ছিল ‘আসমানের খুঁটি’ নামে। কিন্তু মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে আড়াই একরের সেই পাহাড়টির এক-তৃতীয়াংশ এখন সমতল ভূমি। দিন-রাত দুটি খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) চালিয়ে পাহাড়টি কেটে সাবাড় করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের জালিয়ারচাং এলাকায় পাহাড় কাটার এই ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী চারজনের একটি চক্র এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জালিয়ারচাং জামে মসজিদ থেকে মাত্র দেড়শ মিটার দূরে পাহাড় কেটে বিশাল মাঠের মতো সমতল করা হয়েছে। দুই পাশে পাহাড়ের কাটা অংশে খননযন্ত্রের ক্ষত স্পষ্ট। বড় বড় গাছের শেকড় উপড়ে পড়ে আছে মাটিতে। পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে মহাসড়কের মতো চওড়া রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘এই পাহাড়টি বহু বছরের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী। মালিক প্রবাসী আমান উল্লাহ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর কাছে মাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। আমরা প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় পরে আর কেউ কথা বলেনি। এখন পাহাড়টি কেটে ফেলায় আমরা চরম ঝুঁকির মুখে আছি।’

পাহাড় কাটার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের একজন আবু তাহের। তাঁর দাবি, এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় এবং বন বিভাগের আওতাধীন নয়, তাই এটি কাটতে কোনো বাধা নেই। তবে পাহাড় কাটলে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান বলেন, ‘পাহাড়টি সংরক্ষিত বনের ভেতরে নয়, বন থেকে প্রায় ২৯০ মিটার দূরে। ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় পাহাড়টি কাটা হলেও আমাদের সরাসরি কিছু করার থাকে না। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার পরিবেশ অধিদপ্তর বা উপজেলা প্রশাসনের।’

প্রচলিত আইনে পাহাড় বা টিলা ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও তা কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়া সরকারি, আধা সরকারি কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় কাটা বা মোচন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অমান্য করলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয় বলেন, ‘জালিয়ারচাংয়ের পাহাড় কাটার বিষয়টি আমরা জেনেছি। পাহাড়টি বন বিভাগের না হলেও অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন জানান, পেকুয়ায় পাহাড় কাটার বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। তবে সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো পাহাড়ই কাটার সুযোগ নেই। তিনি দ্রুত খোঁজ নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন