মৌসুমের আগেই বাজারে আম, চাহিদার তুঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘কাটিমন’
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার পুরাতন বাজারে বিক্রি হচ্ছে কাটিমন আম। সম্প্রতি তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে বাগানগুলো এখন মুকুলের গন্ধে মৌ মৌ করছে। মূল মৌসুম আসতে এখনো ঢের দেরি, তবে এর মধ্যেই জেলার বাজারে দেখা মিলছে বারোমাসি জাতের সুস্বাদু ‘কাটিমন’ আম। পবিত্র রমজানে ইফতারের টেবিলে ভিনদেশি ফলের ভিড়ে এই আগাম আম এখন ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে।
বর্তমানে জেলার আমচাষিরা মুকুল রক্ষা, নিয়মিত সেচ ও বালাইনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর মধ্যেই শিবগঞ্জসহ জেলার কিছু ব্যতিক্রমী বাগানে আগাম ফলন দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে কাটিমন।
শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরঘাট এলাকার পুরাতন বাজার ও কানসাট আমবাজারে গিয়ে দেখা যায়, ঝুড়িতে সাজানো রয়েছে কাঁচা-পাকা কাটিমন আম। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি আম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পুরাতন বাজারের ফল ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'চলতি সপ্তাহ থেকেই বাজারে কাটিমন আসতে শুরু করেছে। স্বাদ ও মিষ্টতা ভালো হওয়ায় মানুষ আগ্রহ নিয়ে কিনছে। বিশেষ করে রমজান চলায় ইফতারে বিদেশি ফলের বদলে অনেকেই এই দেশি আমকেই বেছে নিচ্ছেন।'
বাজারে আম কিনতে আসা এক ক্রেতা ইমরান জানান, মৌসুমের আগে আম পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। দাম কিছুটা চড়া হলেও পরিবারের ইফতারিতে ভিন্ন স্বাদ আনতেই তিনি এই আম কিনছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলার ঘিওন গ্রামে ৪০ বিঘা জমির একটি বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে কাটিমন। বাগানমালিকরা জানান, সঠিক সময়ে গাছ ছাঁটাই, সুষম সার প্রয়োগ এবং সঠিক পরিচর্যার কারণেই সময়ের আগে এই ফলন সম্ভব হয়েছে। চলতি মৌসুমে শুধু এই বাগান থেকেই প্রায় ৩০ লাখ টাকার আম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
চাষিদের মতে, কাটিমন জাতের গাছ খুব বেশি বড় হয় না বলে পরিচর্যা করা সহজ এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম। এই আমে কোনো আঁশ নেই এবং অত্যন্ত মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, কাটিমন একটি উচ্চফলনশীল ও লাভজনক জাত। যেহেতু এই আমটি অমৌসুমে বা সময়ের আগে বাজারে আসে, তাই চাষিরা বরাবরই বাড়তি দাম পান। শিবগঞ্জের বেশ কয়েকজন চাষি ইতিমধ্যে এই আম চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন, যা জেলার অন্য চাষিদেরও আগ্রহী করে তুলছে।'
Comments
Comments