নবাবগঞ্জে কৃষিজমির মাটি কাটার হিড়িক, ঈদের আগে স্থানীয়দের উদ্বেগ ও সমাধান দাবি
![]() |
| পরিবেশ আইন অমান্য করে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের ভূরাখালী এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মানুষের দাবি, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাটি কাটার যন্ত্র ব্যবহার করে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে কৈলাইল, চুড়াইন, শোল্লা, বাহ্রা, শিকারীপাড়া, নয়নশ্রী ও বান্দুরা এলাকায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবেশ আইন অমান্য করে নয়নশ্রী ইউনিয়নের ভূরাখালী এলাকায় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে। এ ছাড়া প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বান্দুরা ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামে পুরোনো একটি পুকুর সংস্কারের নাম করে রাতের আঁধারে মাটি বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কৃষিবিদ প্রদীপ সরকার জানান, জমির উপরিভাগের ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি গভীর মাটিতেই মূল পুষ্টিগুণ থাকে। এই স্তরটি কেটে নেওয়া হলে জমির উর্বরতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত সার ব্যবহার করেও কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পান না।
ভূরাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি দুটি স্থানে সবুজ ফসলি জমির মাঝখানে যন্ত্র বসিয়ে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মাটি তোলা হচ্ছে। এতে আশপাশের জমিও ধসে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় কৃষক আবজাল হোসেন বলেন, ‘লিটন নামের এক ব্যক্তি এসব জমির মাটি কাটছেন। এতে পাশের জমিগুলোও ভেঙে পড়বে। আমরা বারবার নিষেধ করলেও কেউ শুনছে না; ফলে অনেকে বাধ্য হয়েই জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন।’
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম জানান, মাটি কাটা বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। গত কয়েক দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Comments
Comments