‘আর কোনো বম পরিবারকে উচ্ছেদ হতে দেওয়া যাবে না’
![]() |
| বান্দরবানের শহরতলীতে অবস্থিত হেব্রনপাড়ার ৪০ তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করেন বম শিল্পীরা। শনিবার দুপুরে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
কিছু বিপথগামী তরুণের কারণে বম জনগোষ্ঠী বিপদে পড়েছে। বান্দরবানের বম জনগোষ্ঠীর একটি পরিবারকেও আর উচ্ছেদ হতে দেওয়া যাবে না। সবাইকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাস্তবতাকে মোকাবিলা করে টিকে থাকতে হবে।
শনিবার জেলা শহরতলির হেব্রনপাড়া প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বম সোশ্যাল কাউন্সিলের (বিএসসি) সভাপতি ও বম জনগোষ্ঠীর সর্বোচ্চ নেতা লালজার লম বম এসব কথা বলেন। লালজার বম একই সঙ্গে জেলা পরিষদের সদস্য। পাড়ার বর্ষপূর্তি সভায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বমদের উচ্ছেদ হওয়া, গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন সংকটের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই। সভাপতিত্ব করেন পাড়াপ্রধান লাল লিয়ানজল বম। সভায় আরও বক্তব্য দেন রেভারেন্ড জার্মান সাইলুক, সাংমুয়ান বম, পাকসিম বম ও কে রেমা পাংখোয়া।
হেব্রনপাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লালরিং সাং বম পাড়াটি তৈরির ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রোয়াংছড়ি উপজেলার আলেক্ষ্যং মৌজার চোয়াবিলপাড়া ও উইপোমপাড়া নামে দুটি সমৃদ্ধ পাড়ায় তাঁদের বসবাস ছিল। অশান্ত আঞ্চলিক রাজনীতির কারণে ১৯৮০ সালে মাত্র দুই দিনের নোটিশে তাঁদের পাড়া থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল হারানো ৬৪টি পরিবার প্রথমে কচ্ছপতলী এলাকার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে ১৯৮৬ সালে শুধু পরনের কাপড় নিয়ে তাঁরা হেব্রনপাড়ায় চলে আসেন। বান্দরবান জেলা শহরে বাসাবাড়িতে জ্বালানি কাঠ বিক্রি ও দিনমজুরি করে জীবন কাটানো সেই পাড়াবাসীর অধিকাংশই ৪০ বছর পর এখন সচ্ছল। পাড়ার তরুণ-তরুণীদের ৬০ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত এবং ১৪ শতাংশ পরিবারে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন।
বিএসসির সভাপতি লালজার লম বম বলেন, কয়েকজন বিপথগামী বম যুবকের কারণে ২০২২ সাল থেকে বম জনগোষ্ঠী মারাত্মক সংকটে পড়েছে। সমাজের অনেকে সত্য গোপন করে তাঁদের প্রশ্রয় দিয়েছেন। সময় বদলেছে, এখন সত্য গোপন না করে সবাইকে প্রকাশ্যে কাজ করতে হবে। বম সোশ্যাল কাউন্সিল প্রতিটি পাড়ায় যাবে এবং কোনো বম পরিবারকে আর উচ্ছেদ হতে দেওয়া হবে না।
কয়েক বছর আগে কিছু বম যুবক কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠন করে। সমতলের উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে কেএনএফের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। অভিযানের মধ্যেই ২০২৪ সালের এপ্রিলে রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি এবং পুলিশের অস্ত্র লুট করে কেএনএফ সদস্যরা। এরপর অভিযানের মুখে বম জনগোষ্ঠীর ১৯৭ জন নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে এখনো ৯ জন নারীসহ ৯০ জন কারাগারে বন্দী আছেন।

Comments
Comments