তথ্য কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল: ইফতেখারুজ্জামান
![]() |
| রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। সুযোগ থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক উদাহরণ দেখাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘হয়তোবা অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কিছু গোপন করার মতো ছিল। যে কারণে পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল অন্ধকারের মধ্যে। আমরা দেখেছি, সরকারি সিদ্ধান্তগুলো গোপনীয়তার সঙ্গেই নেওয়া হয়েছে।’
ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন। দ্রুত তথ্য কমিশন গঠন ও তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তথ্য অধিকার ফোরাম।
সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের স্বচ্ছতার তোয়াক্কা না করে। সেই সরকার দেড় বছর তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকার পরও তথ্য কমিশন গঠন না হওয়া বিব্রতকর।
ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতা রয়েছে যেসব দেশের, তাদের জন্য গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে উন্মুক্ত হওয়া সহজ বিষয় নয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনে তথ্য কমিশনকে অন্য সব কমিশনের মতো অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেও স্বচ্ছতার অভাব ছিল। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তথ্য কমিশন গঠন উদ্দেশ্যমূলকভাবে আটকে রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—দলীয় প্রভাবমুক্ত ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠন করা। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা তথ্য অধিকার অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে তোলার আগে তথ্য অধিকার ফোরামের প্রস্তাবিত সংশোধনগুলো বিবেচনা করা এবং জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচার করা।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম। এতে আরও বক্তব্য দেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সাবেক শ্রমবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, মাধ্যম সম্পদ উন্নয়ন উদ্যোগ (এমআরডিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান ও নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন।

Comments
Comments