[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

উগ্রবাদ নিয়ে বক্তব্য নির্বাচনের সঙ্গে জুড়ে বিভ্রান্তি: রিজওয়ানা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান | ফাইল ছবি

নারীর প্রতি উগ্রবাদ নিয়ে দেওয়া বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে জানিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে নির্বাচনের প্রসঙ্গ যুক্ত করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে নির্বাচন ও বিরোধী দলকে জড়িয়ে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তা ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, ওই সাক্ষাৎকারে উপস্থাপকের প্রশ্ন ছিল—মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে কটূক্তির বিষয়গুলো তিনি কীভাবে দেখেছেন। এর জবাবে তিনি বলেছিলেন, যারা নারীদের নিয়ে কটূক্তি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে নারী সমাজ প্রতিবাদ করেছে এবং সরকারও কথা বলেছে। ফলে তারা ক্ষমা চেয়েছে। ওই উগ্রবাদী শক্তি যেন মূলধারায় (মেইন স্ট্রিম) আসতে না পারে, সে বিষয়ে নারী সমাজকে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি বলেছি নারী সমাজ সেই উগ্রবাদী শক্তিকে মূলধারায় আসতে দেয়নি, এখানে সরকারের কোনো ভূমিকা বা রাজনৈতিক দলের প্রসঙ্গ ছিল না।’

রিজওয়ানা হাসান আরও যোগ করেন, আলাপের একপর্যায়ে উপস্থাপক নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন যে বিরোধী দলের যেসব উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব বিষয়ে তাঁরা কাজ করবেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি এবং বিরোধী দল যে অবশ্যই মূলধারার অংশ, সেটিও স্পষ্ট করেন। তাঁর দাবি, ‘আমি কোনো দলকে মূলধারা হতে দিইনি’ বলে যে বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

এদিকে, একই দিন দুপুরে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচন কারসাজির’ (ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং) অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই অভিযোগ করেন।

সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘গতকাল আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। তিনি হচ্ছেন সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা। তিনি সাংবাদিকের কাছে প্রকাশ করেছেন যে যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও তাদের মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দেওয়া হয়নি। এর মাধ্যমেই বোঝা যায় যে নির্বাচন কারসাজির কথা উঠেছে, তিনি নিজেই তা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।’

জামায়াত এই দুই সাবেক উপদেষ্টাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ঠিক কী ধরনের কারসাজির মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, সেটি তাঁরা জানতে চান। তিনি আরও বলেন, ‘এই কারসাজিতে তাঁর সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন? পুরো সরকার ছিল, নাকি সরকারের কোনো একটি অংশ ছিল—যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে? তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলকে জেতানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জাতির কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে দাবি জানাব, রিজওয়ানা হাসানকে তাঁরা কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তিনি যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন, সে সম্পর্কে নিজেরা জানবেন, আমাদের জানাবেন ও দেশবাসীর কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করবেন।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন