[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

কাবুলে মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে বিমান হামলা, তালেবানের দাবি ৪০০ মৃত্যু

প্রকাশঃ
অ+ অ-
কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলার দাবির পর একটি মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে। ১৬ মার্চ ২০২৬ | ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। তারা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কাবুলে মাদকাসক্তদের জন্য তৈরি একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করেছে।

আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেছেন, হামলায় অন্তত ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে ‘ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল’ বা মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়।

ফিতরাত তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, দুই হাজার শয্যার এই হাসপাতালের বড় একটি অংশই বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ৪০০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে কাজ করছে, যাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং বাকি মরদেহগুলো দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

আক্রান্ত নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্রটি রাজধানী কাবুলের ৯ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্গত কাবুল-জালালাবাদ মহাসড়কের পাশের হাদখিল এলাকায় অবস্থিত।

আফগান সরকারের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ তাঁর অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, পাকিস্তানি সামরিক শাসকগোষ্ঠী আবারও আফগানিস্তানের আঞ্চলিক সীমানা লঙ্ঘন করেছে। তারা কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে অনেক বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন ও আহত হয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

আফগানিস্তানের একটি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ঠিক কতজন মারা গেছেন, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে মৃতদেহ বের করার কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত যত মৃতদেহ পাওয়া গেছে, তাতে কয়েক শ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে যে ধরনের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে মনে হচ্ছে, এই হামলায় ২০০ থেকে ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ওই হাসপাতালে বোমা পড়ার পর সেখানে আগুন ধরে গেছে। আগুনে পুড়ে বা দম বন্ধ হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা শুনছি।’

মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাতে আরও কয়েকটি জায়গায় হামলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল অষ্টম জেলার অন্তর্গত একটি সামরিক কেন্দ্র। সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ছাড়া নবম জেলার আরও কিছু স্থানে হামলা হয়েছে। তবে বিস্তারিত জানতে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়েছে, আফগান তালেবান ‘তথ্য বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে এক পোস্টে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, পাকিস্তান কাবুল ও নানগারহারে সামরিক স্থাপনা এবং ‘সন্ত্রাসী সহায়তা অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। যার মধ্যে ছিল প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার ও গোলাবারুদের গুদাম। আফগান তালেবান ও পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিরা পাকিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহার করছিল।

এক্স পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ‘পাকিস্তানের লক্ষ্যবস্তু নির্ভুল এবং সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি না হয়। এখন সেটিকে মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্র হিসেবে ভুলভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে মানুষের আবেগকে কাজে লাগানো যায়। এর পেছনে রয়েছে সীমান্তে সন্ত্রাসের অবৈধ সহায়তাকে আড়াল করার চেষ্টা।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন