[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নারায়ণগঞ্জে ডিপোর সামনে ট্যাংক-লরির দীর্ঘ সারি, মিলছে চাহিদার সামান্য তেল

প্রকাশঃ
অ+ অ-
তেল না পেয়ে ডিপোর বাইরে অপেক্ষায় লরির দীর্ঘ সারি। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় পদ্মা ও মেঘনা তেল ডিপোর সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে জ্বালানি তেলের ডিপোর সামনে শত শত ট্যাংকলরির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সরকার নির্ধারিত সীমার কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালক ও সহকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিপোর নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো অবস্থিত। এখান থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া ফতুল্লায় রয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে পদ্মা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানির ডিপোর প্রধান ফটকের সামনে জ্বালানি তেল নিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত ট্যাংকলরি। দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে চালকদের।

ট্যাংক-লরি চালকদের অভিযোগ, তেলের জন্য অপেক্ষা করতেই দিনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে। এর ওপর চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে যানবাহনের ভিড় বাড়ার পাশাপাশি ডিপোতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

ট্যাংক–লরি চালকদের অভিযোগ, অর্ধেক বেলা তেল উত্তোলন করতেই চলে যাচ্ছে। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় পদ্মা তেল ডিপোর সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

শহরের চাষাঢ়া প্রান্তিক ফিলিং স্টেশনে রোববার সন্ধ্যায় পাঁচ হাজার লিটার অকটেন ও পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করেছিল মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। পাম্পের কর্মী মানিক জানিয়েছেন, সেই অকটেন সোমবার দুপুরেই শেষ হয়ে গেছে। দুপুরে মেঘনা ডিপোতে তেল আনতে গেলে তাঁদের শুধু ৯ হাজার লিটার ডিজেল দেওয়া হয়েছে, তবে কোনো অকটেন পাওয়া যায়নি।

সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার চৌরঙ্গী পাম্পের ক্যাশিয়ার বিদ্যুৎ ব্যানার্জি জানান, সকাল থেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরে মেঘনা ডিপো থেকে জ্বালানি পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের চাহিদা ছিল দুই গাড়ি জ্বালানি। কিন্তু আমাদের ৯ হাজার লিটার ডিজেল এবং মাত্র সাড়ে ৫০০ লিটার অকটেন দেওয়া হয়েছে।’ তাঁর মতে, এই সামান্য পরিমাণ তেল খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।

ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক। তিনি জানান, দুই ডিপোতে একজন উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে ৫ জন করে মোট ১০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সেখানে সেনাবাহিনীর টহলও রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে তিনি জানান।

ডিপোর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে কোনো সংকট নেই। সরকার নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ছোট জাহাজে করে চট্টগ্রাম থেকেও তেল আসছে। তিনি বলেন, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পাম্পগুলোতে ভিড় করছে। ডিপোর নিরাপত্তায় পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের টহল অব্যাহত রয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন