[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বাসডুবির ২০ মিনিট আগেও মেয়ের সঙ্গে কথা হয় মর্জিনার

প্রকাশঃ
অ+ অ-
কুষ্টিয়ায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে মর্জিনা খাতুনের লাশ দাফন করা হয়। এ সময় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন  | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

রাজবাড়ীর পাংশায় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে বিলিং সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন মর্জিনা খাতুন (৫৫)। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া পালপাড়া এলাকায়। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মেয়ের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বাসে ওঠেন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসডুবির ঘটনায় তিনি মারা যান।

পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মর্জিনা খাতুনসহ ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চালকসহ তিনজনের মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার জুগিয়া রাস্তাপাড়া গোরস্তানে মর্জিনার দাফন সম্পন্ন হয়। তার স্বামীর নাম আবু বকর সিদ্দীক। তিনি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। মর্জিনার দুই মেয়ে রয়েছেন। বড় মেয়ে আমেনা খাতুন গৃহিণী। ছোট মেয়ে ফাতেমা ফারহানা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক, তবে একটি কোর্স করার জন্য ঢাকায় আছেন। দুই বোনই ঢাকার মিরপুরে থাকেন।

মর্জিনার বড় মেয়ের জামাই মনোয়ার হোসেন বলেন, দুপুরে বাসে করে তাঁর শাশুড়ি মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। বিকেলে বাস গোয়ালন্দ ঘাটে পৌঁছালে বড় মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বাস ঘাটে থেমে আছে এবং কিছু সময়ের মধ্যে ফেরিতে উঠবে। এর ঠিক ২০ মিনিট পর জানতে পারেন, বাস পানিতে ডুবে গেছে। খবর পেয়ে রাতেই তারা রাজবাড়ীতে যান। এরপর গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

মর্জিনা খাতুন | ছবি: সংগৃহীত

মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘রাতেই মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ভোরে মরদেহ কুষ্টিয়ায় আনা হয়। জুগিয়া রাস্তাপাড়া গোরস্তানে জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন।’ তিনি জানান, শাশুড়ির পিত্তথলিতে সমস্যা ছিল, সেই চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় যাচ্ছিলেন।

মর্জিনার স্বামী আবু বকর সিদ্দীক বলেন, তিনি ঢাকায় মেয়ের বাসায় ছিলেন। দুপুরে অফিসের কাজ শেষ করে একবার কথা হয়েছিল। এরপর আর কথা হয়নি। হাসপাতালে গিয়ে তিনি মরদেহ দেখতে পান।

গতকাল বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে। বাসযাত্রী ও কাউন্টার মাস্টারের তথ্য অনুযায়ী, বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন