[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

২৫ মার্চের সেই বিভীষিকা, ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার সাক্ষী বাঙালি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সে ভাস্করের দৃষ্টিতে ২৫ মার্চ রাতের ভয়াল স্মৃতি | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী বাঙালির আন্দোলন দমন করতে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী যে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালায়, সেই নৃশংসতায় শহীদদের স্মরণে পালিত হচ্ছে গণহত্যা দিবস।

সেই কালরাতে চালানো অপারেশন সার্চলাইটের নির্মমতার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি মুক্তির যে যুদ্ধ শুরু করে, তার ধারাবাহিকতায় নয় মাস পর বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বুধবার নানা আয়োজনে সেই রাতের শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে জাতি। দিনটি জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃত।

কালরাতের গণহত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শহীদদের স্মরণ | ফাইল ছবি

সেই রাতে স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যার শিকার হয়। ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে সশস্ত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রাস্তায় নামে।

‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে কুখ্যাত অভিযানে রাতের প্রথম প্রহরেই তারা শুরু করে নির্মম গণহত্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানাসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে অসংখ্য মানুষ নিহত হন, লাশ পড়ে থাকে ঢাকার রাস্তায়। বহু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাঙালির প্রাণের শহীদ মিনার।

তেইশ বছরের শোষণ থেকে মুক্তির আন্দোলন দমিয়ে দিতেই এই গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ঢাকাসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রনেতাদের পাশাপাশি বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার ও হত্যা করা। একই সঙ্গে সামরিক, আধা সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্র করা, অস্ত্রাগার, বেতার কেন্দ্র ও টেলিফোন কেন্দ্র দখল নেওয়া এবং পুরো প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে চলা অসহযোগ আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করে পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাও ছিল এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে পাকিস্তানের দুই অংশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের দুই নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর আলোচনার সময়েই ফেব্রুয়ারি থেকে এই অভিযানের পরিকল্পনা শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনী। তা চূড়ান্ত হয় ১৭ মার্চ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ মার্চ রাত ১টায় ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর আওতায় ঢাকায় অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম রাজার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১০টার দিকে ঢাকা সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি বড় বহর যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে শহরের দিকে রওনা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যা চালায় | ছবি: সংগৃহীত 

শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া সেনাবাহিনীর যান্ত্রিক বহরটি প্রথম প্রতিরোধের মুখে পড়ে ফার্মগেটে। সেখানে বড় বড় গাছের গুঁড়ি, নষ্ট স্টিম রোলার এবং ভাঙা গাড়ি ফেলে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিকামী মানুষের ভিড় থেকে ভেসে আসছিল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান।

গুলি চালিয়ে এই প্রতিরোধ ভেঙে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ট্যাংকগুলো সামনে এগিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রেসকোর্স ময়দানের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে অন্তত ৮০টি সাঁজোয়া যান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

রাত ১১টা ২০ মিনিটের মধ্যেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি অংশ রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ঘিরে ফেলে। এই আক্রমণের খবর সঙ্গে সঙ্গে বেতার বার্তার মাধ্যমে দেশের জেলা ও মহকুমাগুলোতে জানিয়ে দেওয়া হয়।

রাত সাড়ে ১১টার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৩২ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের অধিনায়ক কর্নেল তাজের নেতৃত্বে সেনাদের বহর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আক্রমণ শুরু করে।

ব্যারাকে থাকা বাঙালি পুলিশ সদস্যরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালান।

একই সময়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২২তম বালুচ রেজিমেন্টের সদস্যরা পিলখানায় ইপিআরের ওপর হামলা চালায়। সেখানে থাকা বাঙালি সেনারা সীমিত সামর্থ্য নিয়েও প্রতিরোধ শুরু করেন।

পিলখানায় ইপিআর ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাঁখারি বাজারসহ পুরো ঢাকায় শুরু হয় তীব্র আক্রমণ। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় অন্ধকার রাতে গুলি, বোমা আর ট্যাংকের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর।

সেই রাতে সেনাবাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস, শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা এবং বস্তিবাসীর ওপর ভয়াবহ নৃশংসতা চালায়।

রাত ১টার পর ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে ধানমণ্ডির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাঙালি জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান।

এরপর নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির বিশাল ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।

১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় সাংবাদিক সায়মন ড্রিংয়ের করা প্রতিবেদনে বলা হয়, “আল্লাহর নামে ও অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার অজুহাতে ঢাকা আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও সন্ত্রস্ত এক নগর। পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুর ও ঠাণ্ডা মাথায় গোলাবর্ষণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৭ হাজার মানুষ নিহত, বিশাল এলাকা মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার সংগ্রামকে নৃশংসভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

পাকিস্তানি হায়েনাদের দমন থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।

২০১৭ সাল থেকে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশ। সরকার জানিয়েছে, গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্যও উদ্যোগ চালানো হচ্ছে।

কালরাতের গণহত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শহীদদের স্মরণ করা হয় মোমবাতি প্রজ্জালন করে | ফাইল ছবি

এবার বাংলাদেশে গণহত্যা দিবস এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মাঠের রাজনীতিতে নেই। ২৪ বছরের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এখনও তিনি সেখানে অবস্থান করছেন; মাঠে নেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনাবসান পেরিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষ হয়, এবং এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

গতবার গণহত্যা দিবসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে দূরত্বের কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বাণী আসেনি। এবার নতুন সরকারের সময়ে এই দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপ্রধান বাণী দিয়েছেন।

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের গণহত্যার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বাণীতে বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর বর্বরতা এবং জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবগাথা ও বীরত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। হতে হবে অনুপ্রাণিত।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বহু বছর পর জনগণ পুনরায় ভোটাধিকার পায় এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি ও পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে যাতে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আশা ছিল একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা—যেখানে বৈষম্য, দুঃশাসন, দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচার থাকবে না। আসুন, ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে আমরা শহীদদের এই চেতনা ও প্রত্যাশা পূরণে একযোগে কাজ করি। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হই।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণহত্যা দিবসের প্রথম বাণীতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপ্রধান বাণীতে একাত্তরের সেই দিনের ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বলেছেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। কেন তা প্রতিরোধ করা গেল না, তা নিয়ে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এখনো ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে।

স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করি এবং শহীদদের আত্মত্যাগের সঠিক প্রতিদান দিতে চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।

গণহত্যা দিবস এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও অন্যান্য সন্ত্রাসীরা যাতে এই দিবসগুলোর সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা তৎপর রয়েছে।

২৫ মার্চের গণহত্যা নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির ‘৭১ বর্বরতা’ শীর্ষক স্থাপনাশিল্প প্রদর্শনী থেকে নেওয়া। প্রদর্শনীটি হয়েছিল ২০১৮ সালে | ফাইল ছবি

বুধবার সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে গণহত্যা দিবস পালনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে জ্বালানি সংকটকে সামনে রেখে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যেই সরকার এই বছর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে কোনো আলোকসজ্জা না করার নির্দেশ দিয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে হয়ে আসা ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচি এবার পালন হবে না—এ কথা জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সকালে সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, কালরাত্রিতে শহীদদের স্মরণে বুধবার রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। কেপিআই ও জরুরি স্থাপনাগুলো এই কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

তবে রাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানায়, আলো নিভিয়ে রাখার এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে না। এর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

এদিন দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ২৫ মার্চের গণহত্যা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ২৫ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় মিনিপোলগুলোতে গণহত্যা বিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হবে।

এদিন বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের স্মরণে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন