[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শরীয়তপুরে তেল নেই, দুই দিন ধরে সব কটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শরীয়তপুরের ছয়টি পেট্রলপাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় দুই দিন ধরে বিক্রি বন্ধ আছে। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। শুক্রবার দুপুরে শহরের গ্লোরি ফিলিং স্টেশনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার সুবচনী এলাকার রায়হান কবির। শুক্রবার সকালে মোটরসাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে ফেরার জন্য বের হন তিনি। তবে তিনটি ফিলিং স্টেশন ঘুরেও কোথাও জ্বালানি পাননি। দুপুরে শহরের গ্লোরি ফিলিং স্টেশনে পেট্রলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

শরীয়তপুরের ছয়টি ফিলিং স্টেশনের চিত্র দুই দিন ধরে এমনই। সব স্টেশনেই জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা যাত্রী ও গণপরিবহনের চালকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

রায়হান কবির বলেন, ‘দুই দিন ধরে চেষ্টা করেও কোনো পাম্পে তেল পাচ্ছি না। বেসরকারি কোম্পানির চাকরি করি। সময়মতো অফিসে যোগ না দিলে চাকরি চলে যেতে পারে। যেভাবেই হোক ঢাকায় পৌঁছাতে হবে। মোটরসাইকেলে তেল না ভরতে পারলে যাব কীভাবে?’

ফিলিং স্টেশনের মালিক ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলায় ছয়টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনে প্রতিদিন ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রল ও ১২ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা থাকে। বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ কারণে গতকাল থেকে জেলার সব স্টেশনেই জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকেরা জানান, শরীয়তপুর জেলা থেকে ঢাকায় তিন শতাধিক বাস চলাচল করে। এসব বাস শরীয়তপুরের বিভিন্ন পাম্প থেকে ডিজেল নিয়ে যাত্রী পরিবহন করে। গত দুই দিন ডিজেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাস চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ঢাকা-শরীয়তপুর পথে চলাচলকারী বাসচালক মোহাম্মদ মুন্না বলেন, ‘শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় যেতে-আসতে আমার গাড়িতে ৫০ লিটার ডিজেল লাগে। আগে পাম্পগুলো ২০ লিটার করে তেল দিত। তা দিয়েই দুই-একটি ট্রিপ দিতে পারতাম। গতকাল থেকে সব পাম্প তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এখন বাস বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

নেত্রকোনার একটি সরকারি দপ্তরে চাকরি করেন ডামুড্যার মাসুদ খান। পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যদের নিয়ে কর্মস্থলে ফেরার জন্য শরীয়তপুর পৌর বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঢাকায় যাওয়ার বাস পাননি। মাসুদ খান বলেন, ‘চার ঘণ্টা ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে আছি। কোনো বাসে উঠতে পারছি না। তেলের সংকট থাকায় অনেক বাস চলতে পারছে না—এমনটাই বলছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। আমার মতো অনেক মানুষ এমন দুর্ভোগে পড়েছেন।’

জ্বালানি তেলের সরবরাহ না থাকায় বাস ছাড়েনি। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন গণপরিবহনের যাত্রী ও চালকেরা। বাস না পেয়ে শরীয়তপুর পৌর বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড়। শুক্রবার দুপুরে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার এলাকার হাজী আবদুল জলিল পেট্রলপাম্পের পরিচালক খালেদ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমাদের পাম্পের চাহিদার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ তেল সরবরাহ দিচ্ছে ডিপো। দুই দিন ধরে ডিপো থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। আমার পাম্পের জন্য তেল আনার গাড়ি দুই দিন ধরে ডিপোতে অপেক্ষা করছে। তেল পাওয়া গেলে তা দিয়ে পাম্প চালু করা হবে।’

শরীয়তপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেন, ‘ঢাকা থেকে শরীয়তপুর আসার পথে পদ্মা সেতুর পর থেকে দ্রুতগতির সড়কে কোনো পেট্রলপাম্প চালু নেই। শরীয়তপুরের যে পাম্পগুলো আছে, সেখান থেকে তেল নিয়ে এ জেলার পরিবহনগুলো চলাচল করছে। তেলের সংকটে আমাদের বাসগুলো চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। দুপুরের পর পাম্পে তেল আসবে—এমন নিশ্চয়তা পেয়েছি। তখন হয়তো সমস্যা কিছুটা কমে যাবে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন