[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সিলেটে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে ৯ নেত্রীর তৎপরতা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সৈয়দা আদিবা হোসেন (বাঁ থেকে উপরে), হাদিয়া চৌধুরী, সামিয়া বেগম চৌধুরী, সাবিনা খান ও রোকসানা বেগম শাহনাজ | ছবি : সংগৃহীত

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হতে সিলেটে বিএনপির ৯ জন নেত্রী ও তাঁদের সমর্থকেরা তৎপরতা শুরু করেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। পাশাপাশি তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার চালাচ্ছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় থাকা নারী নেত্রীদের মধ্যে আছেন সৈয়দা আদিবা হোসেন, সাবিনা খান (পপি) ও জেবুন নাহার সেলিম। আদিবা হোসেন ও সাবিনা খান সদ্য শেষ হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। অন্যদিকে জেবুন নাহার সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে সে সময় তাঁরা কেউ মনোনয়ন পাননি।

এই তিন নেত্রী ছাড়াও সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আরও যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাঁরা হলেন—বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আইনজীবী হাদিয়ার চৌধুরী (মুন্নি), সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) সামিয়া বেগম চৌধুরী।

এ ছাড়া এই তালিকায় আছেন সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারের বোন তাহসিন শারমিন তামান্না, সিলেট সিটি করপোরেশনের তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট ল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি রোকসানা বেগম শাহনাজ এবং সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা কুমকুম।

আলোচনায় থাকা নেত্রীদের মধ্যে সৈয়দা আদিবা হোসেন সিলেট-৬ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সৈয়দ মকবুল হোসেনের (লিচু) মেয়ে। জেলা বিএনপির এই নেত্রী টাম্পাকো গ্রুপের পরিচালক এবং ঢাকা স্টোরিটেলার্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলাসহ জেলার পাঁচটি স্কুল ও একটি কলেজের পৃষ্ঠপোষক তিনি। নানা ধরনের সেবামূলক কাজের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আদিবা হোসেন।

সৈয়দা আদিবা হোসেন জানান, তাঁর বাবা সংসদ সদস্য থাকাকালে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও এলাকার শিক্ষা ও রাস্তাঘাটসহ নানা উন্নয়ন করেছেন। তিনি নিজেও বিএনপির রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। গত সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও দলের প্রার্থীকে জেতাতে ভূমিকা রেখেছেন। এবার তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চান।

অন্যদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবিনা খান যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে এবং যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হেমলেটসের সাবেক কাউন্সিলর। এছাড়া জেবুন নাহার সেলিম সিলেট-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত দিলদার হোসেনের (সেলিম) স্ত্রী। তিনি জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী সামিয়া বেগম চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ছাত্রদল গোছানোর মধ্য দিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে আছি। আন্দোলন-সংগ্রামেও ভূমিকা রেখেছি। আশা করছি, দল আমাকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেবে।’

এদিকে স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী জানান, দলের সুসময়ে হঠাৎ করে আসা কোনো নেত্রী যেন মনোনয়ন না পান, সেটি কেন্দ্রকে খেয়াল রাখতে হবে। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে যেসব নারী নেত্রী ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তাঁদেরই মূল্যায়ন করা উচিত। এছাড়া সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে যাঁরা বেশি সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

যোগাযোগ করা হলে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দলের কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে ছিলেন, দল হয়তো তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন