[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বগুড়ায় শুরু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, মাসে মিলবে আড়াই হাজার টাকা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ফ্যামিলি কার্ডের নমুনা কপি | ফাইল ছবি

বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১০ মার্চ প্রাথমিকভাবে এই ইউনিয়নসহ দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণের জন্য শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সুফলভোগীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। এই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে আলাদা দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও পৃথক কমিটি কাজ করছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে এই কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও জানান, দেশের অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো বৈষম্য রাখা হবে না; এটি হবে একটি সর্বজনীন ব্যবস্থা। প্রাথমিকভাবে চার মাস পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চলবে। এরপর ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল ওয়াজেদ জানান, মাঠপর্যায় থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যোগ্য পরিবারগুলো বাছাইয়ের কাজ চলছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি ওয়ার্ডের উপযুক্ত সব পরিবারকেই এই কার্ড দেওয়া হবে এবং পরিবারের একজন নারী এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ের ওয়ার্ড কমিটিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী আহ্বায়ক এবং আনসার-ভিডিপির দলনেতা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সহকারী ও গ্রাম পুলিশ সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। এই কমিটি ফ্যামিলি কার্ডের নীতিমালা মেনে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করবে।

অন্যদিকে, ইউনিয়ন কমিটিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক এবং ইউনিয়ন সমাজকর্মীকে সদস্যসচিব করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটিতে আরও থাকছেন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও দফাদার।

বগুড়ার শাখারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, সুবিধাভোগীদের তালিকা স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে কমিটিতে কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, গ্রাম পুলিশ এবং আনসার-ভিডিপির দলনেতারা। ইউনিয়ন পর্যায়ে এই পুরো কাজের সমন্বয় করছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সরকারি কর্মীরা।

দেশের যে ১৪টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, সেগুলো হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বনানী এলাকার আওতাধীন কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি, ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর শাহ আলী এলাকার আলী মিয়ার টেক বস্তি ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানবাড়ি বস্তি; বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উপজেলার একটি ওয়ার্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্জারামপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড, বান্দরবানের লামা উপজেলার একটি ওয়ার্ড, খুলনার খালিশপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার একটি ওয়ার্ড, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একটি ওয়ার্ড, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার একটি ওয়ার্ড, নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি ওয়ার্ড, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি ওয়ার্ড এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি ওয়ার্ড। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন