২০৩০ সালে দুইবার আসবে রমজান মাস, কেন এই পরিবর্তন
![]() |
| রমজান চাঁদ | প্রতীকী ছবি |
সৌদি আরবে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। দেশটিতে বুধবার থেকে রোজা শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশেও বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন একটি সময় আসছে, যখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা একই বছরে দুবার রমজান মাস পাবেন।
এর মূল কারণ হলো হিজরি সন বা ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদের ওপর নির্ভরশীল। এই চান্দ্রবর্ষপঞ্জি পুরো একটি চক্র পূর্ণ করতে প্রায় ৩৩ বছর সময় নেয়। ফলে কয়েক বছর পর পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন একই ইংরেজি বছরে দুবার রমজান মাস পড়ে।
এক বছরে দুবার রোজা রাখা এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ—বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে এটি বিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম। এটি কীভাবে ঘটে, তা বুঝতে চাঁদের কক্ষপথ ও বর্ষপঞ্জির হিসাব জানা জরুরি।
রমজান মাস হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী চলে, যা পুরোপুরি চাঁদের গতির ওপর নির্ভর করে। ইংরেজি বা গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার যেমন ৩৬৫ দিনে এক বছর হয়, হিজরি সন তেমন নয়। চান্দ্রবছর সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের হয়ে থাকে। অর্থাৎ ইংরেজি বছরের চেয়ে এটি ১০ থেকে ১২ দিন কম।
এই পার্থক্যের কারণে প্রতিবছর রমজান মাস প্রায় ১০ দিন করে এগিয়ে আসে। ফলে রোজা কখনো নির্দিষ্ট তারিখে স্থির থাকে না এবং সময়ের সাথে সাথে ঋতু পরিবর্তন করে। এভাবেই একসময় রমজান মাস ইংরেজি ক্যালেন্ডারের বছরের শুরুতে এবং শেষে অবস্থান করে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে ৪ জানুয়ারি প্রথমবার রমজান শুরু হবে এবং ২ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। এরপর একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর আবারও রমজান মাস শুরু হবে। অর্থাৎ ২০৩০ সালে যারা রোজা রাখবেন, তারা একই ইংরেজি বছরে দুবার রমজানের দেখা পাবেন। তবে এই দুটি রমজান মাসের মাঝে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান থাকবে।
এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে এমন ঘটনা ঘটেছিল। সে বছরও জানুয়ারি ও ডিসেম্বর মাসে দুবার রমজান পালিত হয়েছিল। ভবিষ্যতে ২০৬৩ সালে আবারও এই বিরল দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
চান্দ্রবর্ষপঞ্জির এই স্বাভাবিক নিয়মই রমজানকে প্রতিবছর ভিন্ন ঋতু ও সময়ে নিয়ে আসে। এটি মুসলিমদের জন্য এক ভিন্ন ধরনের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেয়।

Comments
Comments