[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী: এখন কী কী পরিবর্তন আসবে?

প্রকাশঃ
অ+ অ-
গণভোট প্রতীকী ছবি

বিপুল ব্যবধানে গণভোটে জিতেছে ‘হ্যাঁ’ ভোট। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পথ খুলল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধানসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা তিনটায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখের কিছু বেশি। সচিব জানান, গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পথ খুলেছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমবে এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে। সংবিধান অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ হবে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। বর্তমানে প্রায় সব নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকে।

এছাড়া সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার সুযোগ বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে এবং কোনো একটি দলের চাওয়ার ভিত্তিতে সংবিধান পরিবর্তন করা কঠিন হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের অঙ্গীকার করে। এই লক্ষ্যেই অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তারা সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি খাতে সংস্কারের সুপারিশ দেওয়া হয়।

প্রথমে গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশের মধ্যে ১৬৬টিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়। এগুলো মিলিয়ে তৈরি হয় জুলাই জাতীয় সনদ।

মোট ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান সংশ্লিষ্ট। বাকি প্রস্তাবগুলো সরকারি আদেশ, অধ্যাদেশ বা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য। কিছু প্রস্তাব ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করেছে।

সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো অধ্যাদেশ বা আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। জুলাই জাতীয় সনদে থাকা ৪৮টি সংবিধান প্রস্তাব নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৯টিকে মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

মূলত সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বাস্তবায়নের তিনটি স্তর রয়েছে। প্রথমত, আইনি ভিত্তি দিতে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ সালে রাষ্ট্রপতি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন।

দ্বিতীয় স্তর হলো গণভোট। এটি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং সংবিধান সংশ্লিষ্ট অংশের ওপর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় তৃতীয় স্তর শুরু হবে। এতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংস্কার সম্পন্ন করবে। তবে যদি নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান সংস্কার না হয়, তার প্রভাব বা বিকল্প ব্যবস্থা বাস্তবায়ন আদেশে উল্লেখ করা হয়নি।

সংস্কার প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলের প্রধান হবেন না, এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল।

বর্তমানে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করতে হয়। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে—যেমন মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—নিজের এখতিয়ারে এবং কারও পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়া নিয়োগ দিতে পারবেন।

জুলাই সনদে সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবং উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে গঠন করার কথাও বলা হয়েছে। এতে সংবিধান সংশোধনের জন্য নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন