[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

গোপালগঞ্জে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট, বাড়তি দামে দিশেহারা গ্রাহক

প্রকাশঃ
অ+ অ-
এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

গোপালগঞ্জে রমজান মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই সুযোগে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। এলপি গ্যাসের ওপর থেকে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর প্রত্যাহার করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

খুচরা পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে বলে গ্রাহকেরা জানিয়েছেন। একজন ভুক্তভোগী ক্রেতা বলেন, অতিরিক্ত টাকা দিলেই গ্যাস মিলছে। বেশি টাকা দিলে তখন আর সংকট থাকে না।

গ্যাস সিলিন্ডারের কয়েকজন পরিবেশকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানির সময়সূচি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হয়। রমজান উপলক্ষে কোম্পানি সরবরাহ কিছুটা বাড়ালেও পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়ে গেছে। এই কারণেই চড়া দামে গ্যাস বিক্রি করতে হচ্ছে।

পরিবেশকদের তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জে অন্তত ১৫ হাজার পরিবার এবং ১ হাজার হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানে এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

শহরের মান্দারতলা এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম মিয়া বলেন, আমার কাছে মনে হয় না গ্যাসের আসলে কোনো সংকট আছে। বাড়তি টাকা দিলেই গ্যাস পাওয়া যায়। সরকার এক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করার পর ভ্যাটও তুলে নিয়েছে। এতে দাম কমার কথা থাকলেও বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। এমনকি আমি নিজে ১ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনেছি।

শহরের পোস্ট অফিস এলাকার বাসিন্দা রাসেল জানান, সব দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক দোকান ঘুরে ১ হাজার ৫৫০ টাকা দিয়ে একটি সিলিন্ডার কিনতে পেরেছেন তিনি।

মান্দারতলা পেট্রোল পাম্প এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শামীম খান বলেন, রমজানের শুরুতেই লেবু, শসা, মাছ ও মাংসসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। তার ওপর গ্যাসের সংকট ও বাড়তি দামের কারণে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মিলছে না। এখন টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বসুন্ধরা কোম্পানির পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘লাম এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক সাহারা ইয়াসমিন লিয়া বলেন, “কোম্পানির সময়সূচি অনুযায়ী গ্যাস আসে। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। রমজানে সরবরাহ সামান্য বাড়লেও কম সিলিন্ডার আনায় পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়েছে। তাই দূরত্বভেদে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা দরে গ্যাস বিক্রি করতে হচ্ছে।”

টিএমএসএস এলপি গ্যাসের এলাকা ব্যবস্থাপক রাকিব হাসান বলেন, আমাদের গ্যাসের সরবরাহ পর্যাপ্ত। তবে বিভিন্ন কোম্পানির খালি সিলিন্ডার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সঠিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। এ ছাড়া কারখানায় গাড়ির দীর্ঘ সারি থাকায় ডিলারদের কাছে ঠিক সময়ে গ্যাস পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনিম বলেন, বিষয়টি আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন