[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শ্রীপুরে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট

প্রকাশঃ
অ+ অ-
টিকা | প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে গত ছয় মাস ধরে জলাতঙ্ক টিকার তীব্র সংকট চলছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা টিকা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। নির্ধারিত সময়ে টিকার ডোজ সম্পন্ন করতে না পেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

শ্রীপুরের বাসিন্দা আলিম উদ্দিন খান তাঁর ১০ বছর বয়সী নাতি আলভি খানকে নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ঘুরছেন। স্কুল থেকে ফেরার পথে কুকুরের আঁচড় খাওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছে। এখন তৃতীয় ডোজের সময় হলেও বাজারে টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। আলিম উদ্দিন বলেন, ‘মোট পাঁচটি ডোজ দিতে হবে। বড় বড় দোকানেও টিকা নেই। সবাই বলছে সরবরাহ নেই।’

আরেক ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম জানান, কুকুরের কামড়ের পর প্রথম ডোজ তিনি শ্রীপুরে পাননি। পরে ঢাকা থেকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন। এখন দ্বিতীয় ডোজের জন্য কয়েক দিন ধরে ঘুরেও কোনো ফল পাচ্ছেন না।

ওষুধ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শ্রীপুরে দুই বছর আগে মাসে ৪০০ থেকে ৭০০ ভায়াল টিকার চাহিদা ছিল। এখন তা বেড়ে সাড়ে তিন হাজারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই কম। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী টিকা দিতে পারছে না।

শ্রীপুর চৌরাস্তা এলাকার ফার্মেসির মালিক মোক্তার হোসেন খান বলেন, একজনের জন্য পাঁচ ডোজ টিকা লাগে, যার খরচ পড়ে প্রায় আড়াই হাজার টাকা। প্রয়োজনের সময় টিকা না পেয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ইসলাম ফার্মেসির মালিক আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁর দোকানে সপ্তাহে অন্তত ১০০ ভায়াল চাহিদা থাকলেও এ সপ্তাহে পেয়েছেন মাত্র ১৫ ভায়াল।

দেশে জলাতঙ্কের টিকা উৎপাদন করে ইনসেপ্টা ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস। ইনসেপ্টার গাজীপুর অঞ্চলের কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রচুর টিকা নিয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ঘরে বিড়াল-কুকুর পালার প্রবণতা এবং পথে কুকুরের সংখ্যা বাড়ায় কামড় বা আঁচড়ের ঘটনাও বেড়েছে। এর ফলে টিকার চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেশি।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা বিজন মালাকার বলেন, জলাতঙ্ক রোধে সময়মতো টিকা নেওয়া জরুরি। বাজারে সংকট থাকায় অনেকেই ডোজ শেষ করতে পারছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলা সদর হাসপাতাল ও সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই টিকা বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বরাদ্দ থাকলে সুবিধা হতো। বাজারে সংকটের কারণে বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন