[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সংসদে যাচ্ছেন ৭ নারী এমপি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
আফরোজা খানম, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, তাহসিনা রুশদীর, রুমিন ফারহানা, ফারজানা শারমিন, শামা ওবায়েদ ইসলাম ও নায়াব ইউসুফ আহমেদ | ছবি: কোলাজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি আদেশের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা ছিল। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছাড়া বড় দলগুলোর কেউই এই শর্ত পূরণ করেনি। এনসিপি প্রায় ৭ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেও অন্য দলগুলো এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। বিএনপি নারী প্রার্থী দিয়েছিল মাত্র ৩ শতাংশের মতো, আর জামায়াতে ইসলামী কোনো নারী প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়নি।

এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ও সাবেক সংস্কার কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কতজন নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দলগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি আরও বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন তাদের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দলগুলো লিখিতভাবে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করেনি।’

এদিকে নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৯৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ৭ জন নারী প্রার্থী জয়ী হতে পেরেছেন। বিজয়ী এই নারী প্রার্থীদের মধ্যে ৬ জন বিএনপির এবং একজন স্বতন্ত্র হিসেবে (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) নির্বাচিত হয়েছেন।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূর রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।

ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এস এম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট।

সিলেট-২ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ‘গুম’ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট। উল্লেখ্য, সিলেট জেলার ছয়টি আসনের ৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে তাহসিনা রুশদীরই ছিলেন একমাত্র নারী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ের জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন। এ ছাড়া নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ আহমেদ বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ৮৪, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ শতাংশ। দলগতভাবে প্রার্থী হয়েছিলেন ৬৬ জন নারী এবং স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করেছেন ১৯ জন। এর বাইরে হিজড়া জনগোষ্ঠীর একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, নারী প্রার্থীদের বড় অংশই উচ্চশিক্ষিত। ৮৪ জনের মধ্যে ৬৪ জনই (৭৫ শতাংশ) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বয়সের হিসাবে ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (৩২ জন)। এ ছাড়া পেশাগত দিক থেকে দেখা গেছে, প্রায় ৬৭ শতাংশ নারীই কর্মজীবী।

গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯৬ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হয়েছিলেন ১৯ জন। একাদশ নির্বাচনে ৬৮ জনের মধ্যে ২২ জন এবং দশম নির্বাচনে ২৯ জনের মধ্যে ১৮ জন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯ জন নারী জয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুজনেই তিনটি করে আসনে বিজয়ী হন।

এর আগে অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে ১৯ জন, সপ্তম নির্বাচনে ৬ জন, ষষ্ঠ নির্বাচনে ৮ জন এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় নির্বাচনে ৫ জন নারী প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন