গোপালগঞ্জের ভোটকেন্দ্রে ভোটার নেই বললেই চলে
![]() |
| গোপালগঞ্জে ভোটারের উপস্থিতির হার অনেক কম | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
গোপালগঞ্জের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। সারা দেশে ভোটের চিত্র যেমনই হোক, গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে—এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। কারণ, এই জেলাটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ও সমাধিস্থল এখানেই। বিগত নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন।
টুঙ্গিপাড়ার ডিমাডাঙ্গা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আজ সকাল ৭টার আগেই প্রিজাইডিং অফিসাররা উপস্থিত হলেও ভোটারের দেখা মেলেনি। এই কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৫৪০ জন ভোটারের মধ্যে অর্ধেকই নারী, কিন্তু সকালের দিকে উপস্থিতির হার ছিল প্রায় শূন্য।
গোপালগঞ্জ-১, ২ ও ৩—এই তিনটি আসন মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। ঐতিহাসিকভাবেই এই অঞ্চলটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে শেখ হাসিনা প্রতিবারই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে আসছিলেন। তবে এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ভোট নিয়ে চরম অনাগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ না থাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছে। দলটির এই আহ্বান এই জেলায় সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দলের পদধারী নেতারা মামলা বা কারাবন্দি হওয়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করছেন না, তবে নিরবতার মাধ্যমেই ভোটাররা তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
ভোটের শুরুটা হতাশাজনক হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হাল ছাড়ছেন না। তাদের এজেন্টদের আশা, বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের ভিড় বাড়তে পারে। দিন শেষে তারা ৫০ শতাংশ ভোট পড়ার প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।

Comments
Comments