হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনসিপি ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এনসিপির বিজয়ী প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজয়ী এনসিপি ও পরাজিত বিএনপির প্রার্থী একে অপরের কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালিতে নিজ নিজ বাড়িতে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব অভিযোগ করেন।
উভয় পক্ষের দাবি, পাল্টাপাল্টি হামলায় তাঁদের অনেক নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভোটের আগের রাত ও ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে তাঁদের কর্মী–সমর্থকেরা ভীতির মধ্যে ছিলেন। তল্লাশির নামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়। এতে অনেক ভোটার কেন্দ্রে যেতে পারেননি। বিভিন্ন স্থানে হামলায় অনেকে আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে তাঁদের কর্মী–সমর্থকদের খুঁজে খুঁজে মারধর করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কিছু সদস্য পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। নির্বাচনের আগের রাতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এতে জনমনে ভীতি তৈরি হয়।
মাহবুবের রহমান আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর নিঝুমদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং যুবদল নেতা মোতালেবকে মারধর করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইউনিয়নে হামলায় আহত ১০ জন নারী–পুরুষ কর্মীকে উপস্থিত করা হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাতিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আলী হায়দারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম। বিকেলে হাতিয়ার ওছখালীতে নিজ বাড়িতে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
অন্যদিকে বিজয়ী প্রার্থী এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, ভোটের আগের রাত থেকে শুরু করে ফল ঘোষণার পর পর্যন্ত বিএনপির কর্মী–সমর্থকেরা বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেন। চানন্দি ইউনিয়নে তাঁর চাচাতো ভাই মো. হেলালের বাড়িসহ শতাধিক বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ।
হান্নান মাসউদ বলেন, তাঁদের কর্মী–সমর্থকদের বাড়িতে হামলা হলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


Comments
Comments