রমজানে ফলের বাজারে আগুন, কেজিতে বেড়েছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত
![]() |
| বেড়েছে প্রায় সব ধরনের ফলের দাম। চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক এলাকায় | ফাইল ছবি |
পবিত্র রমজান মাস এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে—বিষয়টি যেন এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি রমজানেও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এই তালিকায় বাদ পড়েনি দেশি-বিদেশি ফলও। বাজারে কিছু ফলের দাম কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, রোজায় দাম বাড়ানো এখন প্রথায় পরিণত হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে আপেল প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কমলা ৩৫০ টাকা, আনার ৫৬০ টাকা, নাশপাতি ৪৪০ টাকা, মাল্টা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং খেজুর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আঙুর বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
দেশি ফলের মধ্যে প্রতি ডজন সবরি কলা ১২০ টাকা ও সাগর কলা ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আনারস প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরই প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ১৫০ টাকা এবং পেয়ারা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে তরমুজ তেমন একটা চোখে পড়েনি। হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে এই রসালো ফল দেখা গেলেও দাম ছিল আকাশচুম্বী। প্রতি কেজি তরমুজ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, পাইকারি বাজার (আড়ত) থেকেই দাম নির্ধারণ হয়। সেখানে দাম বেশি হওয়ার কারণে আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ফলের দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে। বেশি দামে কিনে আমরা তো লোকসানে বিক্রি করতে পারি না। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।
কারওয়ান বাজারে ফল কিনতে আসা আব্দুর রহমান বলেন, দাম বাড়ার বিষয়টি আমরা মেনেই নিয়েছি। রমজানের আগে থেকেই দাম বাড়ার খবর শুনছিলাম, এখন বাজারে তার প্রভাব দেখছি। আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের চিৎকার করে কোনো লাভ নেই।
বনশ্রীর বাসিন্দা সেলিম বলেন, ফলের দাম এখন নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। ইফতারের সময় ফল খেতে চাইলেও সাধারণ মানুষ এখন তা পারছে না। এটি অত্যন্ত কষ্টের। আসলে আমাদের বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থাই কাজে লাগছে না। সকালে জরিমানা করা হলে বিকেলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় বাজার।

Comments
Comments