নিউমার্কেট ও লালবাগে দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
| মরদেহ উদ্ধার | প্রতীকী ছবি |
রাজধানীর নিউমার্কেট ও লালবাগ এলাকা থেকে এক নারী ও এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত থেকে রোববার সকালের মধ্যে এই দুটি ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নিউমার্কেট এলাকার খাদিজা আক্তার (২৩) ও লালবাগের চুন্নু সর্দার (৫০)। আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ সূত্রধর জানান, শনিবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে এলিফ্যান্ট রোডের তাজউদ্দীন টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় খাদিজা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে যেকোনো সময় এই ঘটনা ঘটতে পারে। স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার এক দিন আগে স্বামীর সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়েছিল এবং এরপর তাঁর স্বামী সাকিন বাবার বাড়িতে চলে যান।
খাদিজা ও সাকিন ওই ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। বাসার গৃহকর্ত্রী শাহনাজ জানান, কয়েক মাস ধরে তাঁরা সেখানে ছিলেন। স্বামী বাসায় না থাকলে এক বান্ধবী খাদিজার সঙ্গে থাকতেন। খাদিজা চাকরি করতেন এবং তাঁর স্বামী পড়াশোনা করতেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে তাঁদের সংসারের খরচ খাদিজার বাবাই বহন করতেন।
অন্যদিকে, আজ সকাল ১০টার দিকে লালবাগ থানার শহীদ নগর ২ নম্বর গলির একটি বাসা থেকে চুন্নু সর্দারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লালবাগ থানার এসআই নাজমুল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, চুন্নু সর্দার ঢাকায় একটি জুতার কারখানায় কাজ করতেন এবং ওই বাসায় সাবলেট থাকতেন। এসআই নাজমুল পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, তিনি আর্থিকভাবে খুবই অসচ্ছল ছিলেন। তাঁর পরিবার গ্রামে থাকে। সংসার পরিচালনা ও আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
তবে এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চুন্নু সর্দারের বাড়ি বরিশালের মুলাদি উপজেলার বাইলাতলী গ্রামে।
Comments
Comments