বরগুনায় সংস্কারকাজে দীর্ঘসূত্রতা, সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ
![]() |
| সড়ক সংস্কার কাজে ধীরগতি এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদে বরগুনা নিশানবাড়িয়া সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার দুপুরে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বরগুনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সড়কের সংস্কারকাজ ফেলে রাখায় সড়কে বাঁশ ফেলে অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সড়কের দুই পাশে অনেক ছোট-বড় যানবাহন ও যাত্রী আটকে পড়ে। এই কর্মসূচি থেকে দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের বরগুনা-নিশানবাড়িয়া সড়কের ক্রোক এলাকায় এ অবরোধ চলে। ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম। পরে আগামী এক মাসের মধ্যে সংস্কার শেষ করার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাড়ে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হলেও বাকি ১২ কিলোমিটার সংস্কারাধীন। এর মধ্যে ৬-৭ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও পথচারী চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। পুরো সড়ক এখন ধুলায় সয়লাব।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কের সংস্কারকাজে মোট ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৯টি প্যাকেজে ভাগ করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক বছর মেয়াদে কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে আটটি প্যাকেজের কাজ পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’ এবং একটির কাজ পায় ‘জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স’। বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন বশির নামের একজন স্থানীয় ঠিকাদার। কিন্তু দুটি প্যাকেজ শেষ করার পর একটি মামলায় বশির গ্রেপ্তার হওয়ায় বাকি কাজ থমকে যায়।
সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী আমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এভাবে কাজ ফেলে রাখা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এক বছর ধরে এই এলাকার মানুষ সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। ধুলায় সবজিখেত, পুকুর ও ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
অটোরিকশাচালক সুলতান বলেন, ‘আমি অবরোধ সমর্থন করি। ১০ বছর ধরে গাড়ি চালাই, কিন্তু কখনোই এই সড়কটি পুরোটা ভালোভাবে মেরামত হতে দেখিনি।’ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোশারেফ হোসেন জানান, ধুলাবালুতে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। শিশু ও বয়স্করা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, সড়কটির কার্পেটিং করা বাকি আছে। ঠিকাদার গ্রেপ্তার হওয়ায় কাজ বন্ধ ছিল। মূল ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁরা আগামী শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করবেন। আশা করা যাচ্ছে, এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে।

Comments
Comments