দুপুরে স্লোগান, বিকেলে ভাঙাচোরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ
![]() |
| দিনাজপুরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নেতা–কর্মীদের স্লোগান। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
দিনাজপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যালয়ে হঠাৎ কয়েকজন নেতা–কর্মী হাজির হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে বিকেলে কার্যালয়টিতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একদল নেতা–কর্মী।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাতজন নেতা–কর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। তাঁদেরই একজন মুঠোফোনে নিজের ছবি তোলার ভঙ্গিতে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় তাঁরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, আমরা আছি লাখো ভাই’ বলে কয়েকবার স্লোগান দেন। এ সময় সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ খালেদ হাবিব (সুমন), সাংস্কৃতিক সম্পাদক রহমতুল্লাহ রহমত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাহ উদ্দিন, সদস্য রুহানা নিশাত প্রমুখকে দেখা যায়।
দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় আওয়ামী লীগের দুটি দ্বিতল দলীয় কার্যালয় রয়েছে। একটিতে জেলা আওয়ামী লীগের এবং অপরটিতে শহর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। জুলাই অভ্যুত্থানের পর আগুন দিয়ে দুটি কার্যালয়ই পুড়িয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তী সময়ে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কার্যালয় দুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙেও ফেলা হয়। সেই থেকে ভবন দুটির সামনের দেয়াল ভাঙাচোরা অবস্থায় পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। এরই মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে একজন চায়ের দোকান চালাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার কিছু আগে কয়েকজন জুলাই আন্দোলনকারী শহর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
![]() |
| আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের উপস্থিতির প্রতিবাদে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ। রোববার বিকেলে শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায়| ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
এ বিষয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ফয়সাল মোস্তাক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রশাসনের চোখের সামনেই নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতা–কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে একধরনের আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মিনহাজ ও সুমন নামের দুজন জুলাই যোদ্ধার নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট সরকারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টির প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুই হাজার শহীদের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। তাঁদের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি ভোগ করতেই হবে।’
এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুন্নবী বলেন, ‘ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখেছি। তবে তারা ঘটনাস্থলে বেশিক্ষণ অবস্থান করেনি। শহরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে রোববার বিকেলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় বিজয় চত্বর এলাকায় একদল নেতা–কর্মী আওয়ামী লীগের ভাঙাচোরা কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রোকনুজ্জামান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোনায়েম মিঞা, শতগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, পাল্টাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান প্রমুখ।


Comments
Comments