সেনবাগে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
![]() |
| মারধর | প্রতীকী ছবি |
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর এসব হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে দুই দলের নেতা–কর্মীরা দাবি করেছেন।
সেনবাগের তিনটি স্থানে জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। মারধরের শিকার হন ইউনিয়ন জামায়াতের সম্পাদকসহ কমপক্ষে তিনজন। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ডমুরুয়া, বিন্নাগনি ও শ্যামেরগাঁও গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জামায়াতের কর্মীদের হামলায় কানুরচর গ্রামে তাঁদের পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার পরাজয়ের পর শুক্রবার সকালে সেনবাগ পৌরসভার বিন্নাগনি এলাকায় স্থানীয় জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে (৬০) মারধর করেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই দিন দুপুরে ডমুরুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সম্পাদক ও স্থানীয় মসজিদের খতিব আবদুল হালিম (৫০) ও তাঁর ছেলেদের ওপর হামলা চালান স্থানীয় ধানের শীষের কর্মীরা। এ ছাড়া শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের শ্যামেরগাঁও গ্রামে জামায়াত কর্মী মো. আবদুল্লাহকে (৩০) মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির ইয়াছিন করিম বলেন, নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এরপর দলের পক্ষ থেকে দলীয় নেতা–কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ডমুরুয়া, বিন্নাগনি এবং শনিবার শ্যামেরগাঁও গ্রামে দলের ইউনিয়ন সম্পাদকসহ তিনজনের ওপর হামলা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে থানা-পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নেতৃবৃন্দকেও জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, জামায়াতের কোনো কর্মীর ওপর বিএনপির কিংবা সহযোগী সংগঠনের কেউ হামলা চালায়নি। বরং তাঁরাই কানুরচরে হামলা চালিয়ে বিএনপির পাঁচজনকে আহত করেছেন।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যেখান থেকেই তাঁরা সংবাদ পাচ্ছেন, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠাচ্ছেন। কালালাইতা গ্রামে হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ থানায় করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো জায়গার ঘটনার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments
Comments