হবিগঞ্জে ওসির সঙ্গে দুর্ব্যবহার, আটক হলেন বিএনপি নেতা
![]() |
| বিএনপি নেতাকে আটকের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেন দলের নেতা–কর্মীরা। রোববার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
হবিগঞ্জের বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ফেসবুকে ভিডিও দিয়ে তাঁকে হেয় করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
এদিকে ফেরদৌস আহমেদকে আটকের প্রতিবাদে আজ দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবলের মিরপুর এলাকায় অবরোধ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁরা প্রায় ১৫ মিনিট মহাসড়কে অবস্থান করার পর পুলিশ গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাতে ব্যক্তিগত কাজে বাহুবল থানায় যান ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী। ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি দেখেন, ওসির সঙ্গে গল্প করছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও উপজেলা বিএনপি নেতা মুখলেছুর রহমান। এ সময় ফেরদৌস আহমেদ ওসিকে প্রশ্ন করেন, ‘আমার ফোন ধরেন না কেন? এত রসিকতা করে গল্প করছেন, আমার ফোন ধরার সময় পান না।’ এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে থানা থেকে বের হয়ে ফেরদৌস তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি ভিডিও দেন, যেখানে তিনি ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনেন।
গতকাল রাতে ওসির সঙ্গে ওই বিএনপি নেতার বাগ্বিতণ্ডার একটি অডিও ক্লিপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত শুরু করে এবং তার ধারাবাহিকতায় আজ বেলা একটার দিকে তাঁকে আটক করা হয়।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাখী রানী দাস জানান, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য জি কে গউছের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Comments
Comments