[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

আসামি ছাড়ার অভিযোগে ওসি অবরুদ্ধ, এসআইয়ের কান ধরানোর ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে কান ধরিয়ে দাঁড় করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে | ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত বাসচালককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে কান ধরে দাঁড় করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলা পল্লাপুকুর এলাকায় ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জহিরুল ইসলাম। তিনি বেলপুকুর থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত।

ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়, জহিরুল ইসলাম ঘুষের বিনিময়ে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসচালককে ছেড়ে দিয়েছেন। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) একই ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিকেলে পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি বাস অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত ইসলাম (২৩) নামের একজন নিহত হন। তিনি রাজশাহীর বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি পুঠিয়া উপজেলায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

আহত অবস্থায় আরও দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তাঁরা হলেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক (৪৫) এবং রাজশাহী নগরের কর্ণহার থানার ধর্মহাটা এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার (৩০)।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা এসআই জহিরুল ইসলামকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। সেখানে থানার ওসিকেও দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এসআই জহিরুল ইসলামকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা বেলপুকুর থানার পুলিশ। কান ধরে দাঁড়ায়ে আছে, জনগণের কাছে কট। গাড়ির ড্রাইভারেক ছেড়ে দিয়েছে। পল্লাপুকুরে দুই থেকে তিনজন স্পট ডেথ। ...একটা মজার বিষয় দেখেন, দায়িত্ব এমন একটা জিনিস—যদি ভালোভাবে পালন না করে তাহলে এমন পরিস্থিতি তাঁদের মোকাবিলা করতে হবে। ...সবাই বলছে, ঘুষখোর টাকা খেয়ে ড্রাইভারকে ছেড়ে দিসে...। এটা ঘুষ খাওয়ার পরিণতি।’

পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে বেলপুকুর থানার ওসি মো. আরজুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরেননি।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর বাস চালিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যান চালক। সেখানে বাসটি রেখে তিনি পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ওসিসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত লোকজনের মধ্য থেকে গুজব ছড়ানো হয়। তাঁরা উত্তেজিত হয়ে ওসি ও এসআইয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ সরকারি কাজে বাধা দেন। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন