নিখোঁজের ১৯ মাস পর কঙ্কাল উদ্ধার
![]() |
| পুলিশ পয়সা গ্রামের পুকুর থেকে সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
১৯ মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সুমন হোসেন (৩৯)। কোথাও তার হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশ বিষয়টি কোনো কূলকিনারা পাচ্ছিল না। অবশেষে এক ব্যক্তির স্বীকারোক্তির মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়। পুলিশ জানাচ্ছে, প্রতিবেশী এক গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করায় সুমনকে হত্যা করা হয়। তাকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে খুন করার পর শুকনো ডোবার মাটি খুঁড়ে লাশ পুঁতে রাখা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কয়শা গ্রামের একটি ডোবার পানি সেচে মাটি খুঁড়ে সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাড়গোড়গুলো নওগাঁর আত্রাই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে, যা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।
সন্ধ্যায় আত্রাই থানায় সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে আত্রাই উপজেলার কয়শা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে সুমন বাড়ি থেকে বের হন এবং আর ফেরেননি। দুই দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে আত্রাই থানায় নিখোঁজের জিডি করা হয়। পরে বাড়ির পাশে ইটের টুকরায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তের ডিএনএ শনাক্ত করে তা সুমনের রক্ত বলে নিশ্চিত করে। এরপর সুমনের স্ত্রী ১৫ নভেম্বর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার দুই মাস পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় পুলিশ তৎপর হতে পারছিল না। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, নিখোঁজ সুমনের পরিবার নতুন তথ্য দিয়ে সাক্ষাৎ করলে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড স্বীকার করেন।
স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, সুমন তাঁর স্ত্রীর কাছে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং হাত ধরে টানাটানি করায় আসামি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর ২০২৪ সালের ২২ জুন রাত ১২টার দিকে সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের সহযোগিতায় গ্রামের নির্জন রাস্তায় ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে দুই ভাই লাশ গুম করতে পাশের শুকনো ডোবায় মাটিচাপা দেন। হত্যার এক ভাই কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ সুপার তারিকুল জানান, শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার আসামির দেখানো পয়সা গ্রামের রমজানের পুকুরের ডোবা সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ সুমনের হাড়গোড়সহ বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক উৎসুক জনতাও ভিড় জমায়।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, হত্যার পর খুনি সুমনের মুঠোফোন নিজের কাছে রেখেছিলেন। পরে সেটি চালু করে ব্যবহার করা শুরু করেন। এই সূত্র ধরে খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। হাড়গোড়গুলো ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

Comments
Comments