কয়েকটি দল দেশকে আবার পুরোনো পথে ফেরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে: মামুনুল হক
![]() |
| বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী নূরে আলম হামিদীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির আমির মামুনুল হক। মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে মাঠে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার পর লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে মানুষের ভাগ্য বদলায়নি। সেই কারণেই জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে তরুণেরা জীবন উৎসর্গ করে দেশকে নতুন পথে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এখন কিছু রাজনৈতিক দল দেশকে আবার পুরোনো পথে ফিরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে মাঠে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী নূরে আলম হামিদীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে জনগণের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করতে চান, মানুষের সেবা ও দেশের উন্নয়নে আন্তরিক, তাদের জনতার কাতারে নামতে হবে। রাজনৈতিক মাঠ ও সংসদে যুক্তি ও বিশ্বাসের রাজনীতি করতে হবে। আগের মতো সন্ত্রাস, ভয়ভীতি বা পেশিশক্তির মাধ্যমে ব্যালট ছিনতাইয়ের রাজনীতি আর চলবে না। সেই সময় আর দেশে ফিরবে না।
মামুনুল হকের অভিযোগ, কখনো শাসকগোষ্ঠী দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে বিশ্ব দরবারে অপমানিত করেছে, আবার কখনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদসহ পুরো দেশ বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করেছে। এভাবে তারা দেশের মানুষের মর্যাদা বিক্রি করেছে।
তিনি আরও বলেন, যারা সন্ত্রাস ও পেশিশক্তির ওপর ভর করে রাজনীতি করত, তাদের ‘জাকান্দানি’ শুরু হয়ে গেছে। মরার আগে মানুষ যেমন ছটফট করে—ঢাকাই ভাষায় যাকে জাকান্দানি বলা হয়—বর্তমানে তাঁদের অবস্থাও ঠিক তেমন। লুটপাটের রাজনীতি আর জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
মুক্তিপণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৫৪ বছরের শোষণ, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদী শক্তির কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতেই ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়। বাংলার দামাল সন্তানেরা বুক পেতে মাঠে নেমেছিলেন, বুলেটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। যে রক্তের বিনিময়ে এই আন্দোলন হয়েছে, তারই ফসল জুলাই সনদ। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে গণ-অভ্যুত্থান বিজয়ী হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে।
মামুনুল হক বলেন, যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে, জনগণ বুঝে নেবে তারা দেশের বিপক্ষে এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বরুণা মাদ্রাসার সদরে মুহতামিম সাইদুর রহমান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক, মৌলভীবাজার-৩ আসনের ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থী আহমদ বিলাল (দেয়াল ঘড়ি প্রতীক), মৌলভীবাজার-৪ আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী নূরে আলম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি মাওলানা আয়েত আলী, শেখবাড়ি জামিয়ার নির্বাহী মুহতামিম শেখ আফজল হামিদী এবং রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট রশিদ আহমদ হামিদী। সভার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মুফতি হাবিবুর রহমান কাসিমী।

Comments
Comments