[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

যুবলীগ নেতার বাড়িতে এনসিপির প্রতিনিধি পরিচয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
চাঁদা দাবি করায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গার নেসার উদ্দিন সড়কের একটি বাড়িতে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

খুলনার কয়রা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে এনসিপির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার নেসার উদ্দিন সড়কে শফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক তিনজন হলেন মেহেদি হাসান মিরাজ, আল নাঈম ও মিরাজ গাজী। এ ঘটনায় সোনাডাঙ্গা থানায় চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম একাধিক মামলার আসামি। গতকাল দুপুরে তিন ব্যক্তি বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে তাঁর বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। পরে তারা নিজেদের এনসিপির সদস্য পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, সেখানে আওয়ামী লীগের এক নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। একপর্যায়ে তারা শফিকুল ইসলামের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শফিকুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ পারভীন গোপনে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শাহনাজ পারভীন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন।

শফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে তিনজনকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তাদের জিজ্ঞাসা করছেন কেন তারা ওই বাড়িতে এসেছেন। জবাবে আটক ব্যক্তিদের একজন বলেন, তাদের কাছে খবর ছিল যে সেখানে কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অবস্থান করছেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি এনসিপির খুলনা জেলার প্রধান সমন্বয়কারীর কাছে জানিয়েছিলেন।

শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘প্রথমে ওই তিনজন বাসা ভাড়া হবে কি না, জানতে এসেছিলেন। পরে তারা নিজেদের এনসিপির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁদের পাঠিয়েছেন। তারা ঘরে ঢুকে নানা কথা বলতে থাকেন এবং একপর্যায়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমার বাবা টাকা দিতে অপারগতা জানালে তারা দুর্ব্যবহার শুরু করেন। তখন আমি গোপনে পুলিশকে খবর দিই।’

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এনসিপির খুলনা জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তার তিনজন দলের সদস্য নন এবং তাদের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টি সব ধরনের চাঁদাবাজি ও অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তিনি।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন