[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বগুড়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় ৩ সাংবাদিককে জড়ানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বগুড়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় তিন সাংবাদিককে জড়ানোর প্রতিবাদে সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ। সোমবার দুপুরে শেরপুর করতোয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রতিনিধি–সহ তিন সাংবাদিককে জড়ানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে মামলা থেকে তিন সাংবাদিকের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রাথমিক তদন্ত ও যাচাই–বাছাই ছাড়াই মামলায় সাংবাদিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় বগুড়া সদর থানার ওসি অপসারণের দাবিও জানানো হয়।

আজ সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় বগুড়া–ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর করতোয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে ঢাকাগামী লেনে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শেরপুরের সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের পাশাপাশি শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব, শেরপুর থানা প্রেসক্লাব, উত্তরবঙ্গ সাংবাদিক সংস্থা, সাংবাদিক উন্নয়ন সোসাইটি ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সদস্যরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। এ ছাড়া শেরপুর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ব্যবসায়ীরাও অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করতে একটি মামলাবাজ গোষ্ঠীর তৎপরতা দিন দিন বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বগুড়া শহরে ছাত্র–জনতার ওপর হামলার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। ওই মামলায় শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক চাঁদনী বাজার পত্রিকার শেরপুর প্রতিনিধি শুভ কুন্ডু, দৈনিক প্রথম আলোর শেরপুর প্রতিনিধি সঞ্জীব কুমার ওরফে সবুজ চৌধুরী এবং দৈনিক প্রভাতের আলো পত্রিকার বগুড়া জেলা নিজস্ব প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন পল্লবকে আসামি করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, মামলার এজাহারে তিনজনের সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই বাদীর অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। অথচ এই তিন সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে সংবাদকর্মে যুক্ত এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জীবনঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বক্তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

সম্মিলিত সাংবাদিক জোটের প্রধান সমন্বয়কারী রঞ্জন কুমার দের সভাপতিত্বে এবং ডেইলি অবজারভারের প্রতিনিধি সৌরভ অধিকারীর সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ আপেল, শহর যুবদলের আহ্বায়ক সাবেক কাউন্সিলর শাহাবুল করিম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক কুমার সরকার, উত্তরবঙ্গ সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি সরোয়ার জাহান, প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম বাবলু এবং দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকার প্রতিনিধি ইফতেখার আলম ফরহাদ।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন দৈনিক আমার সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি লিমন হাসান, দৈনিক দেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক জবাবদিহি পত্রিকার প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান হীরা, আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি কালবেলার প্রতিনিধি বাঁধন কর্মকার কৃষ্ণ, দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম জ্যাকি, দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার প্রতিনিধি আহসান হাবিবসহ অন্যরা।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ মিলন সরকার, সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, আল মাহমুদ কমল, সনাতন সরকার, শাজাহান মণ্ডল, মেহেদী হাসান মজনু, এনামুল হক, নাজমুল হুদা নয়ন, আবু বক্কর সিদ্দিক, সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্যাম, বিমান মৈত্র, দুলাল শেখ, বাদশা আলম, ইউনুস আলী, বিপ্লব মোহন্ত ও রায়হান পারভেজ প্রমুখ।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন