[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানির চিন্তা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ভোলা থেকে রূপান্তর করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বানিয়ে জাহাজে করে ঢাকায় আনতে চায় জ্বালানি বিভাগ | প্রতীকী ছবি

গ্যাসের সংকট সামাল দিতে পারছে না সরকার। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। চাইলেও বাড়তি গ্যাস আমদানি করা যাচ্ছে না, কারণ সে ধরনের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে অলস পড়ে থাকা ভোলার গ্যাস ব্যবহারে সক্রিয় হয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

শিল্পখাতে গ্যাস সংকট মোকাবিলার নামে আগের সরকারের সময়ে ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনার অনুমোদন পায় ইন্ট্রাকো। সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস, সিএনজি, হিসেবে সিলিন্ডারে ভরে ঢাকায় আনা শুরু হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে। দিনে ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস আনার কথা ছিল। পরে তা বাড়িয়ে আড়াই কোটি ঘনফুটে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে তারা দিনে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ৯ লাখ ঘনফুট গ্যাস আনতে পেরেছে। এখন সেই পরিমাণ আরও কমে আসছে।

এই অবস্থায় সিএনজি করে ঢাকায় গ্যাস আনার পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গ্যাস রূপান্তর করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, এলএনজি, বানিয়ে জাহাজে করে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা করছে জ্বালানি বিভাগ।

বেসরকারি উদ্যোগে দিনে তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস এনে শিল্পখাতে সরবরাহ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এ জন্য ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম নির্ধারণে মঙ্গলবার শুনানি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বিইআরসি। কমিশনের কার্যালয়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা প্রস্তাব করা হয়েছে। ভোলা থেকে আনা সিএনজির দামও একই রাখা হয়েছে।

তবে এলএনজির দাম নির্ধারণ নিয়ে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, ভোলার গ্যাস স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবহার করতে তুলনামূলক কম দামে গ্যাস সরবরাহের কথা বলেছিল জ্বালানি বিভাগ। নতুন শিল্পকারখানায় সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম এখন ৪০ টাকা। ভোলায় শিল্প হলে এই দাম ৩০ টাকা করার কথা। এই দাম নির্ধারণ না করেই এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। অথচ ভোলায় বিনিয়োগ উৎসাহী করতে গত নভেম্বরে সরকারের তিনজন উপদেষ্টা ভোলা ঘুরে এসেছেন।

সরকারি অর্থায়নে ভোলায় একটি সার কারখানা করতে এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ভোলায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বিসিক, বড় উদ্যোক্তাদের নিয়ে শিল্পাঞ্চল এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা, ইপিজেড, তৈরির কথা বলেছে সরকার। ভোলায় আরেক ব্যবসায়িক গোষ্ঠী শেল্‌টেকের সিরামিক কারখানা ২০১৯ সালে উৎপাদন শুরু করেছে। ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল। এর মধ্যে এলএনজি করে আনার এই প্রক্রিয়া ভোলায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুনানিতে অংশ নিয়ে অনেকে ভোলার গ্যাস এলএনজি করে আনার বিরোধিতা করেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পিডিবি, এর অতিরিক্ত পরিচালক, অর্থ পরিদপ্তর, সৈয়দ জুলফিকার আলী বলেন, এলএনজি রূপান্তর ও পরিবহনে খরচ ধরা হয়েছে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা। দিনে ৩ কোটি ঘনফুট করে গ্যাস আনা হলে বছরে খরচ হবে প্রায় ৯৩০ কোটি টাকা। ১০ বছরে এই খরচ দাঁড়াবে ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রের এই টাকা অপচয় না করে ভোলায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

পিডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ১ ঘনমিটার গ্যাস দিয়ে ৪ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। সেই বিদ্যুৎ ঢাকায় আনতে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়বে ১ টাকা ২৪ পয়সা। এতে কোনো রকম বিনিয়োগ প্রয়োজন নেই।

শুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ভোলায় আরও গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে পাইপলাইন করতেই হবে। সবার মতামত বিবেচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ করা হয় সর্বোচ্চ ২৭০ থেকে ২৭৫ কোটি ঘনফুট। এতে ১০৫ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জোর দিয়ে কূপ খনন করা হচ্ছে। ভোলায় বর্তমানে দিনে উৎপাদন সক্ষমতা ১২ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে ৯ কোটি ঘনফুট। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ভোলায় নতুন নতুন কূপ খনন করা হচ্ছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন