[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

প্রতীকী সাফল্যের গল্প দিয়ে নয়, বরং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন দরকার: জাইমা রহমান

প্রকাশঃ
অ+ অ-
‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তব্য দেন জাইমা রহমান। রোববার বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা, পরিবহন—সবকিছুই মূলত পুরুষদের নিরাপদ রাখা ও সফল হওয়ার জন্যই তৈরি। নারীরা এর মধ্যে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। এই পৃথিবী শুধু পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নয়, এটি নারীদের জন্যও। তাই আমাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে।’

এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির সদ্য নিযুক্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। রোববার বিকেলে এক নীতিনির্ধারণী সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। জাইমা নিজেই জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম নীতি সংলাপে অংশগ্রহণ।

জাইমা তারেক রহমানের সঙ্গে গত ১৭ বছর লন্ডনে ছিলেন। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনিও বাবা-মায়ের সঙ্গে দেশে ফেরেন।

‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ (নারীর হাতে জাতির নির্মাণ: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ) শীর্ষক এই নীতি সংলাপের আয়োজন করে ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ, ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে। আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংলাপে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ। তরুণেরা অংশ নেন মুক্ত আলোচনায়। জাইমা রহমানের প্রতি তাদের প্রশ্ন ছিল জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি, অনলাইনে হয়রানি, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক কাজী জেসিন।

জাইমা প্রথমে লিখিত বক্তব্য দেন, পরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজ আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের নীতিগত বিষয়ে কথা বলার জন্য। আমি এমন কেউ নই, যার কাছে সব সমস্যার সব উত্তর আছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সবার মধ্যেই সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে।’

জাইমা রহমান বলেন, ‘আজকের এই সংলাপ নারীরা কীভাবে জাতি গঠন করছে, সে বিষয়ে। কিন্তু ভবিষ্যৎ গঠনের কথা বলার আগে আমাদের সৎভাবে বাংলাদেশের নারীদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা নিয়ে কথা বলা উচিত, যে বাস্তবতাই তাদের জীবনকে গড়ে তুলছে। সমাজে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে আমার প্রথম ধারণা আমার পরিবারের মধ্যেই এসেছে, যেমনটা আমাদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই হয়। নীতি, আইন বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার অনেক আগেই ঘরটাই ছিল আমাদের প্রথম শ্রেণিকক্ষ।’

তিনি আরও বলেন, নারীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার দাদি খালেদা জিয়া যেভাবে মেয়েদের শিক্ষায় উপবৃত্তি চালু করেছিলেন, চিকিৎসক মায়ের পেশাগত দায়িত্ব পালন, নানির সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাবার ভাবনার কথাগুলো তার কাছে উদাহরণ হিসেবে এসেছে।

জাইমা রহমান বলেন, ‘আমার দাদা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বুঝতেন, নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন কখনোই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। একটি গল্প মনে পড়ে। দাদু যখন লন্ডনে আমাদের সঙ্গে ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তখন নাইজেরিয়ার একজন নার্স তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন এবং বলেছিলেন, তাঁর দেশ মেয়েদের শিক্ষায় খালেদা জিয়ার মডেল অনুসরণ করে উপকৃত হয়েছে।’

নারীর সমতায় পুরুষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জাইমা রহমান বলেন, ‘আমাদের বাবা, ভাই, ছেলে, স্বামী, সহকর্মী ও বন্ধুদের সমর্থন নারীর অধিকারের জন্য খুবই প্রয়োজন। নারীর সাফল্য উদ্‌যাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমতা কেবল কথার ওপর টিকে থাকতে পারে না। যদি ব্যবস্থা ও প্রত্যাশা স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে নারীর ত্যাগের ওপর নির্ভর করে, বৈষম্য চলতেই থাকবে। বিশেষ করে বাবাদের এই চক্র ভাঙতে একটি অনন্য ভূমিকা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি একমাত্র সন্তান এবং আমার মা–বাবা কখনোই আমাকে এমন অনুভূতি দেননি যে তারা মেয়ের বদলে ছেলে চাইতেন। একবার কেউ এমন প্রশ্ন করায় আমার বাবা তাকে বকেও দিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা বুঝতেন, ঘরে আমি সম্মান ও যত্নে বড় হলেও বাইরের পৃথিবী সব সময় একই রকম হবে না। তাই তিনি নিশ্চিত করেছিলেন, আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই পৃথিবীর মুখোমুখি হতে পারি।’

জাইমা রহমান বলেন, ‘যখন নারীদের সীমারেখায় ঠেলে না দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা শুধু নিজের জীবনই বদলান না, তারা বদলে দেয় তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং পুরো জাতির ভবিষ্যৎও। বাংলাদেশ যদি সত্যিকারের অগ্রগতি চায়, তবে শুধু প্রতীকী সাফল্যের গল্প নয়, বরং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন দরকার। ক্ষমতায়ন থেমে থাকতে পারে না শুধু শ্রেণিকক্ষে, অফিসে বা নীতিনির্ধারণে। এটি পৌঁছাতে হবে আমাদের ঘরে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং আমাদের মানসিকতায়। এর দায়িত্ব আমাদের সবার।’

প্রশ্নোত্তর পর্বে জাইমা রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানচ্যুতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পড়েন নারীরা। পাশাপাশি পাচারের শিকার হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। অনলাইনে নারীর প্রতি হয়রানির হার ৭৮ শতাংশ, বিশেষ করে ফেসবুকে। এটি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা। আইনি সুরক্ষা যথেষ্ট নয়, অভিযোগ করার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই।

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা, পরিবহন—সবকিছুই মূলত পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে। নারীদের এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। নারীদের জন্য প্রবেশগম্যতা তৈরি করা প্রয়োজন। অনেক নারী গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন পদোন্নতির কাছাকাছি পৌঁছান, পারিবারিক দায়িত্ব, শিশু লালন–পালনের কারণে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। কিছু বিষয় পুনর্নকশা করা যেতে পারে, যাতে সমাজে নারীরা আরও ভালোভাবে সফল হতে পারে। এই পৃথিবী শুধু পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নয়, এটি নারীদের জন্যও। তাই আমাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন