[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

চট্টগ্রামে ছাত্রদলের নেতার বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রাঙ্গুনিয়া চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ওসমান। গত বৃহস্পতিবার রাতে | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০০১ সালে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা এলাকায় বিএনপিকে জেতাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজনের ওপর হামলা করেছিলেন বলে গত বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়ন ছাত্রদল আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি দাবি করেন। শুক্রবার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রদলের সাবেক এই নেতার নাম মুহাম্মদ ওসমান। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিও ‘রাঙ্গুনিয়া-৭’ নামে একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে মুহাম্মদ ওসমান উপস্থিত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা জীবন বাজি রেখে নির্বাচন করেছি। জীবনে কোনো দিন চন্দ্রঘোনায় বিএনপি জিতেনি। কিন্তু ২০০১ সালে আমরা দেড় হাজার ভোটে জেতাতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দু পাড়ায় গিয়ে দুই-তিনজনকে মাথা ফাটিয়ে আসছি... এভাবে আমরা নির্বাচন করিয়ে আমার ভাইকে (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) চন্দ্রঘোনা থেকে জেতিয়েছি। তো যত বাধাই আসুক, ছাত্রদলের ছেলেরা কেন্দ্রে থাকবেন, সব বাধা অতিক্রম করে বিপুল ভোটে জিততে হবে।’

জানানো হয়েছে, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে চন্দ্রঘোনা আধুরপাড়া গ্রামে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনটি ছিল চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের। মুহাম্মদ ওসমান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

ওসমান যখন হিন্দু পাড়ায় গিয়ে দুই-তিনজনের মাথা ফাটানোর কথা বলছিলেন, তখন পাশে বসা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস সিকদার তাকে এ বিষয়ে কথা না বলার ইশারা দেন। তবে মুহাম্মদ ওসমান বলেন, ‘বলতে হবে’, এবং বক্তব্য চালিয়ে যান।

মুহাম্মদ ওসমানের এই বক্তব্যে অনেক ভোটারের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে বলে দাবি করেন রাঙ্গুনিয়া আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী।

জানতে চাইলে জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ‘এটি স্মরণসভা হওয়া উচিত ছিল, যেখানে দোয়া পড়ার কথা। কিন্তু সেখানে মানুষের মাথা ফাটানোর কথা বলা হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা চাই।’

একই আসনের ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইকবাল হাসান বলেন, ‘সব মানুষ নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে, এমন পরিবেশে নির্বাচন হতে হবে। দোয়া মাহফিলে এই ধরনের নিন্দনীয় বক্তব্য ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভয় সৃষ্টি করবে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বক্তব্য বিষয়ে মুহাম্মদ ওসমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বাহার বলেন, ‘এই বক্তব্য বিএনপির নীতির পরিপন্থী। বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দল। আমরা এসব বক্তব্য ঘৃণা করি। ছাত্রদলের সাবেক এই নেতার বিতর্কিত বক্তব্য দলের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা এর দায় নেব না।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন