[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ভিসা বন্ড আরোপে দুঃখ প্রকাশ, তবু এটিকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না তৌহিদ হোসেন

প্রকাশঃ
অ+ অ-

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন 

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের ৩৮ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাগরিকদের যুক্ত করার বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে এ কথা বলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং একাধিক দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘কোন দেশগুলো আছে? যাদের ইমিগ্রেশন (অভিবাসন) নিয়ে সমস্যা আছে। আপনারা আমেরিকানদের কৌশল দেখেছেন, যারা সেখানে তাদের সামাজিক ব্যবস্থার সুবিধা নেয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেশি।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘তাই তারা যদি কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে, এটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। অবশ্যই বিষয়টি দুঃখজনক, আমাদের জন্য কষ্টকর। তবে এটি অস্বাভাবিক নয়।’

তবে এই ঘটনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করছেন না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘যদি সবকিছু গত এক বছরের মধ্যে ঘটত, তাহলে আমি বলতাম আমরা দায়ী। সমস্যা হলো, যদি এক বছরের মধ্যে হতো, তাহলে বলা যেত এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে। কিন্তু এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। কাজেই দায়দায়িত্ব যদি পলিসিগতভাবে কারও ওপর পড়ে, তাহলে তা পূর্ববর্তী সব সরকারের ওপরই পড়ে। সেটি আমরা পরিবর্তন করতে পারিনি, পরিবর্তন করা সম্ভবও না। কারণ, মানুষের এই চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা এই সরকারের নেই, কোনো সরকারেরই ছিল না।’

এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়মিত অভিবাসননীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘নীতিগত দিক থেকে আমি বলতে পারি, প্রথম দিন থেকেই আমরা অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। একমাত্র সমাধান হবে, যদি আমরা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। এখনো পত্রপত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা গেছে, কেউ আবার হাবুডুবু খেয়ে উদ্ধার হয়েছে। সে একজন ভুক্তভোগী, তার প্রতি আমাদের সব ধরনের সহানুভূতি রয়েছে। তবে একই সঙ্গে আইন লঙ্ঘনও হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গ্রামের যে ছেলেটি এখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়ায় যায়, তার তো আসলে কেনিয়া বা তুরস্কে যাওয়ার সামর্থ্যই নেই। এটা আমরা কেন থামাতে পারছি না? যত দিন পর্যন্ত আমরা এটি থামাতে না পারব, তত দিন ভূমধ্যসাগরে মানুষ মরতেই থাকবে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮ দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। শুরুতে গত বছরের আগস্টে ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকায় ছয়টি দেশের নাম যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে আরও সাতটি দেশের নাম এই তালিকায় যোগ করা হয়। এরপর মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।

ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি মাত্র শুরু হয়েছে। আমরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই এগোব। চেষ্টা করব, যেন এই ব্যবস্থা থেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন