যশোরে ঘুষের টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার, দুদক কার্যালয় ঘেরাও
![]() |
| যশোরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ছাড়াতে প্রায় তিন ঘণ্টা দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। গতকাল রাতে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
যশোরে ঘুষের টাকাসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে লক্ষাধিক টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাঁকে আটক করা হয়।
পরে ওই কর্মকর্তাকে ছাড়াতে সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দুদকের যশোর সমন্বিত কার্যালয় ঘিরে রাখেন শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁর মুক্তির দাবিতে নানা স্লোগান দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার আশরাফুল আলম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) হিসেবে কর্মরত।
দুদক সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানের সময় পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার মুহূর্তে আশরাফুল আলমকে হাতেনাতে ধরা হয়। পরে তাঁকে দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দুদক কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা কার্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে দুদকের কর্মকর্তারা বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
মামলা শেষে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁকে থানায় নেওয়ার জন্য পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় শিক্ষকেরা আবারও গাড়ি ঘিরে রাখেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
অবরোধকারীদের একজন সদর উপজেলার দত্তনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল জব্বর। তিনি বলেন, এই জেলায় অনেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অধীনে চাকরি করেছি। কিন্তু আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ওই শিক্ষককে অন্যত্র বদলি করায় ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিক্ষা কর্মকর্তাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জামিনে বের করার চেষ্টা করব। জামিন না হলে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, অভিযানের পর দুদক কার্যালয়ে আমাদের একটি দল যায়। মামলা শেষে শিক্ষা কর্মকর্তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। থানায় আনার সময় শিক্ষকেরা অবরোধ করলে আমরা তাঁদের বুঝিয়ে সরিয়ে দিই। পরে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার গত বছরের ২৩ আগস্ট মারা যান। পরে তাঁর স্বামী নুরুন্নবী পেনশন ফাইল অনুমোদনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পেনশন ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। বিষয়টি জানিয়ে নুরুন্নবী দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। এরপর গতকাল বিকেলে ঘুষ লেনদেনের সময় দুদক কর্মকর্তারা ফাঁদ পেতে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন।

Comments
Comments