দুই বছরের বিরতির পর মেলান্দহে ঘোড়দৌড়ের উচ্ছ্বাস
আগেই কাটা হয়েছে খেতের ফসল, এখন নতুন ফসল চাষাবাদের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে শীত উপেক্ষা করে প্রায় দুই কিলোমিটার ধানি জমি বিভিন্ন বয়সী মানুষে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। সবার দৃষ্টি সেই ফসলের মাঠে। প্রায় অর্ধশত ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা দেখার জন্য এই ভিড় জমেছিল।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হরিপুর এলাকার ধানি জমির খোলা মাঠে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শীতকালীন গ্রামীণ ঐতিহ্য হিসেবে এটি আয়োজন করে হরিপুর, ভাটিয়াপাড়া ও পাথালিয়া এলাকাবাসী। প্রতিবছরই এ আয়োজন করা হয়। প্রায় ৩০ বছর ধরে প্রতিযোগিতা চলে আসছে। তবে গত দুই বছর এটি বন্ধ ছিল।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় খেলাকে টিকিয়ে রাখতে, নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। গতকাল বেলা তিনটায় ঘোড়দৌড় শুরু হয়। এর আগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের গ্রাম থেকে দর্শকরা মাঠে আসতে শুরু করেন। খেলা শুরুর আগেই হরিপুর ফসলি মাঠ দর্শকদ্রোহে ভরে যায়। প্রতিযোগিতা শুরু হলে দর্শকের করতালিতে চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে। খেলা শেষ হয় সন্ধ্যায়।
এতে জামালপুর সদর, ইসলামপুর, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা, সিরাজগঞ্জ ও শেরপুর জেলার ৩৫টি ঘোড়া অংশ নেয়। প্রথম হন সিরাজগঞ্জের ঘোড়সওয়ার খোরশেদ আলম। দ্বিতীয় হন ইসলামপুরের টাবুরচর এলাকার মোহাম্মদ আজিজুল। প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল একটি গরু, দ্বিতীয় পুরস্কার ছাগল। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ২৪টি পুরস্কার দেওয়া হয়।
খেলা দেখতে আসা উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের যুবক আজগর আলী বলেন, ‘এই ঘোড়দৌড় খেলার কথা বাবা-দাদার কাছ থেকে শুধু শুনেছি। নিজ চোখে আগে কখনো দেখিনি। বাস্তবে প্রথমবার দেখলাম। খুব ভালো লাগল। খেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের মতো আবহ তৈরি হয়েছে।’
হরিপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, খেলার খবর অনেক আগে থেকেই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। দুপুরের পর তিনি মাঠে চলে আসেন। তার মতো হাজারো মানুষ এখানে জড়ো হয়েছেন।
আয়োজক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কিশমত পাশা বলেন, প্রায় অর্ধশত ঘোড়া পর্যায়ক্রমে এ খেলায় অংশ নেয়। ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা গ্রামবাংলার শত বছরের পুরোনো একটি খেলা। আগে সবচেয়ে বেশি এই প্রতিযোগিতা হতো, এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তরুণ প্রজন্মকে এই খেলা সম্পর্কে জানানোর জন্য, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্য এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষকে কিছুটা বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তিনি বলেন, প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করার চেষ্টা করা হবে।

Comments
Comments