[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

হাসিনা যুগের সমাপ্তি? জয় বললেন, ‘সম্ভবত তাই’

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ওয়াশিংটন ডিসিতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন |  আল জাজিরার ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

আওয়ামী লীগ যদি আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসে, শেখ হাসিনাকে হয়তো আর নেতৃত্বে দেখা যাবে না। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, 'আমার মা আসলে দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। বিদেশে থাকতে চান না।' 

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তাঁর মা (শেখ হাসিনা) ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি সময় তার কাছে ছিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে দলটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

আওয়ামী লীগের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ হাসিনার মতোই দেশে না থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। যারা দেশে ছিলেন, তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে।

শেখ হাসিনার ছেলে জয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাড়িতে আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জয় জানতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যত আছে কি না।

উত্তরে জয় বলেন, ‘অবশ্যই আছে। আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না। এটি সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় দল। আমাদের ৪০–৫০ শতাংশ ভোট আছে। আপনি কি মনে করেন, ৪০–৫০ শতাংশ মানুষ হঠাৎ সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেবে? দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৬–৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের। তারা কি হঠাৎ সমর্থন বন্ধ করে দেবে?’

আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করছি, কারণ আপনি বলেছেন, আপনার মা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন। এখন যদি তিনি কখনো বাংলাদেশে ফিরে যান, তাহলে কি তিনি আর রাজনীতিতে থাকবেন না?’

জবাবে জয় বলেন, ‘না। তার বয়স হয়েছে (৭৮ বছর)। এমনিতেই এটি তার শেষ মেয়াদ হতো। তিনি অবসর নিতে চাচ্ছেন।’

এ সময় শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, তাহলে এটিকে কি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়?

এর উত্তরে শেখ হাসিনার ছেলে জয় বলেন, ‘সম্ভবত তাই।’

আল জাজিরার সাংবাদিক আবার জানতে চান, তাহলে কি আওয়ামী লীগ যদি আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, সেটি শেখ হাসিনাকে ছাড়াই হবে?

জয় বলেন, ‘হ্যাঁ। আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এটি সবচেয়ে পুরনো দল। ৭০ বছর ধরে আছে। তাকে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই এই দল চলবে। তিনি… কেউ তো চিরদিন বাঁচে না।’

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আমলে অনুষ্ঠিত ১৫ বছরের তিনটি জাতীয় নির্বাচনই নানা অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সে সময় জামায়াতে ইসলামী ছিল নিষিদ্ধ। আর এখন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারছে না।

এই প্রসঙ্গ টেনে শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকে বহু মানবাধিকার সংস্থা বাজে ধারণা বলে মনে করে। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এখানে কি এক ধরনের আয়রনি নেই? কারণ যেসব অভিযোগে এখন কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো বছরের পর বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও উঠেছে।

এই অভিযোগ থাকার কথা স্বীকার করেই জয় বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কাউকে নিষিদ্ধ করেনি। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল আদালতের সিদ্ধান্তে।

আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতিসংঘের সমালোচনার প্রসঙ্গ এলে জয় ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের জরিপের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জরিপ, আমেরিকানদের জনমত জরিপ—সবই দেখাচ্ছিল আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে। আমাদের কোনো অনিয়মের প্রয়োজন ছিল না। প্রশাসনের ভেতরে কিছু লোক নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এসব করেছে। দলীয়ভাবে আমার মা ও আমি এতে খুব ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম।

‘আমরা একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচন চেয়েছিলাম, কারণ আমরা এমনিতেই জিততে যাচ্ছিলাম। আমাদের জরিপে—আমি নিজেই দলের জন্য জরিপ করতাম—৩০০ আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনে জরিপ করা হয়েছিল। ওই আসনগুলোতে আমাদের সর্বনিম্ন জয়ের ব্যবধান ছিল ৩০ শতাংশ। তাই কোনোভাবেই এসবের প্রয়োজন ছিল না।’

জয় দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে কোনো কারচুপি হয়নি। বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। সরকার দমন–পীড়ন চালালে পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে যাবে।

এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, সরকার বলছে, এসব বক্তব্যই আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার অন্যতম কারণ। কারণ এতে সহিংসতায় উসকানির ইঙ্গিত রয়েছে।

জবাবে জয় বলেন, ‘দেখুন, কাউকে যখন একেবারে কোণঠাসা করে ফেলা হয়, তখন কী হবে? আমরা সহিংসতা চাই না। আমাদের প্রতিবাদ করতেও দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ কী সহিংসতা করছে?’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তুলে জয় বলেন, গত বছরের জুলাইয়ের আন্দোলনের পর থেকে শত শত কর্মী নিহত হয়েছেন। ত্রিশের বেশি মানুষ হেফাজতে মারা গেছেন। মাত্র গত সপ্তাহেই দলের এক সংখ্যালঘু নেতা, একজন হিন্দু ব্যক্তি, কারাগারে হেফাজতে নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আপনি বলছেন, ভুলকে ভুল দিয়ে ঠিক করা যায় না। কিন্তু যখন কাউকে বলপ্রয়োগ করে দমন করা হয় এবং কোনো বিকল্প রাখা হয় না, তখন কী হবে?’

এ সময় শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, এই ধরনের বক্তব্য ব্যবহার করে কি তিনি আসলে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার যুক্তিকেই শক্তিশালী করছেন না—এই বার্তা দিয়ে যে, ভোট করতে না দিলে সহিংসতা হবে?

জবাবে জয় বলেন, ‘আমি সহিংসতার হুমকি দিইনি। আমি বলেছি, যদি আমাদের সহিংসভাবে দমন করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সহিংসতা হবে। আমি আমার কর্মীদের হামলা করতে বলিনি।’

এরপর আল জাজিরার সাংবাদিক ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং এতে আওয়ামী লীগ কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন।

জয় বলেন, ‘অবশ্যই না। এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মতো সক্ষমতা আমাদের থাকত, তাহলে কি এই রেজিম এখনও টিকে থাকত?’

তিনি দাবি করেন, হাদি হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এমন সহিংস লোকজন আওয়ামী লীগের নয়, তারা অন্য কোনো সংগঠনের হতে পারে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হাদিকে গুলি করার ঘটনায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচক ছিলেন হাদি এবং এটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিশোধের ঘটনা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জয় বলেন, ‘শুটার কে, আমি জানি না। অনেক নাম সামনে এসেছে। এমন অনেকের নাম বলা হয়েছে, যাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই। আমাদের ছাত্রসংগঠনে অসংখ্য তরুণ যুক্ত ছিল। সে কতটা যুক্ত ছিল, তার কোনো পদ ছিল কি না—সব কিছুর দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানো হচ্ছে।’

শেষে শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, একদিকে সহিংসতার আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তবেই একটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে—এটি কি যুক্তিসংগত নয়?

এর উত্তরে জয় বলেন, তার বক্তব্য এসেছে ‘প্রতিবাদের’ প্রেক্ষাপট থেকে।

তিনি বলেন, ‘আপনি কি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে রাস্তায় নামতে দেখছেন? তা তো হচ্ছে না। আমাদের দশ হাজারের বেশি মানুষ কারাগারে। আমরা যখনই প্রতিবাদ করতে চেয়েছি, তখনই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয়। এখন আমাদের প্রচারণা হলো—এই কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনে মানুষ যেন ভোট না দেয়। আমরা সেটাই করছি।’ 

জয়ের কাছে আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন জানতে চান, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান দমন করতে ‘নির্মম’ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়। এ জন্য তাঁর কোনো অনুশোচনা আছে কি না।

জবাবে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘সেটা সত্য নয়। আপনি যদি অনলাইনে আমার বক্তব্য শুনে থাকেন, দেখবেন আমি বারবার বলেছি—আওয়ামী লীগ ঠিকমতো বিক্ষোভ সামলাতে পারেনি। আমাদের সরকার পরিস্থিতি ঠিকভাবে সামলাতে পারেনি।’

আল জাজিরার সাংবাদিক তখন প্রশ্ন করেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন শত শত নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ‘মিসহ্যান্ডেলড’ শব্দটি কি খুব বেশি নমনীয় নয়?

এর জবাবে জয় দাবি করেন, এসব ঘটনার কোনোটি তাঁর মায়ের নির্দেশে হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমার মা যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তাহলে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন। ইরানে এখন যা ঘটছে, সেটাই দেখুন। তারা কি কিছু করতে পারছে? না।’

৫ অগাস্ট সরকার পতনের দিনের প্রসঙ্গ তুলে জয় বলেন, ‘আমার মা বারবার বলেছেন—সেদিন আমার সঙ্গে আলাপেও তিনি বলছিলেন, “তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। আমাদের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা আমাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু যদি সেটা ঘটে, শত শত মানুষ মারা যাবে। আমি তাদের রক্ত আমার হাতে নিতে চাই না।”’

তিনি আরও বলেন, ‘এটাই আমার মায়ের কথা। ওই সময়ে শত শত পুলিশ সদস্য নিহত হন। আমাদের শত শত কর্মীও নিহত হন। এই রেজিম আসলে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়েছে…।’

এরপর শ্রীনিবাসন জৈন আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন অডিও রেকর্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, সেগুলো কীভাবে অস্বীকার করা যায়। ওই অডিওতে শেখ হাসিনাকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দিতে শোনা গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে জয় বলেন, আল জাজিরা ও বিবিসি পুরো অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেনি। ফলে প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি পুরো ক্লিপটি আমার ফেসবুক পেজে দিয়েছিলাম। সেখানে তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার এবং জানমাল ও সম্পত্তি রক্ষায় সশস্ত্র জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে জঙ্গিরা জড়িত ছিল। অনলাইনে এমন ভিডিও আছে, যেখানে বেসামরিক লোকদের অস্ত্রসহ দেখা যায়।’

শ্রীনিবাসন জৈন জানান, জয়ের ফেসবুক পেজে তিনি ওই ধরনের কোনো অডিও ক্লিপ খুঁজে পাননি। তখন জয় বলেন, তিনি আবার সেই অডিও ক্লিপ প্রকাশ করবেন।

আল জাজিরার সাংবাদিক জানতে চান, জানমাল রক্ষার জন্য শেখ হাসিনা যে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জয় দাবি করছেন, তা কি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উত্তরে জয় বলেন, ‘ওই নির্দেশ ছিল সহিংস বিক্ষোভকারী, সশস্ত্র বিক্ষোভকারী ও সন্ত্রাসীদের জন্য। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের জন্য নয়। এখন বলুন তো, কোনো দেশে যদি সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা মানুষ ও পুলিশকে গুলি করতে থাকে, তাহলে আইনের দৃষ্টিতে সরকার কী করবে?’

এই পর্যায়ে শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, তাহলে আবু সাঈদ, জোবায়েদ হোসেন ইমন ও মীর রহমান মুগ্ধের মতো নিরস্ত্র তরুণরা, যারা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন, তারাও কি উগ্রবাদী ছিলেন।

জবাবে জয় বলেন, ‘তখন পরিস্থিতি অত্যন্ত সহিংস ছিল। কিছু পুলিশ সদস্য অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছিলেন। আমাদের সরকারের আমলে সে সময় অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তদন্তের জন্য একটি বিচার বিভাগীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই তদন্তগুলো কেন আর এগোয়নি?’

সাক্ষাৎকারে জানতে চাওয়া হয়, জয় বা তাঁর মা নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত কি না।

এর উত্তরে জয় বলেন, আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পরপরই তাঁর মা, তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের পতনের আগে তিনি এসব পরিবারের কয়েকটির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি পূর্ণ তদন্ত ও পূর্ণ জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।’

যখন বলা হয়, জুলাই আন্দোলনে কেবল ওই কয়েকজন নয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য এসেছে এবং তাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন নির্দোষ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারী, তখন জয় বলেন, সরকারের হিসাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮০০।

তিনি বলেন, ‘১ হাজার ৪০০ সংখ্যাটি ধরা হয়েছে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত। আমাদের সরকার পতন হয় ৫ অগাস্ট। ৫ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের কে হত্যা করেছে?’

জয় আরও বলেন, ‘আমাদের সরকার পতনের পর যে ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে, তাদের কী হবে? কারা তাদের মেরেছে?’

বিচার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একতরফা বিচার হতে পারে না। একতরফা বিচার মানেই বিচার নয়।’

এরপর শ্রীনিবাসন জৈন জানতে চান, সেই বিচার কি তখনকার সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি না। কারণ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুরুতর নিপীড়ন চালানো হয়েছে এবং সেই নেতৃত্বের মধ্যে শেখ হাসিনাও ছিলেন।

জবাবে জয় বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি। আমি জানি, জাতিসংঘের প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট। আবারও বলছি, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১ হাজার ৪০০ মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের সরকার পতনের পরের মৃত্যুগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোর দায় আমাদের সরকারের ওপর চাপানো হয়েছে। এটা কীভাবে ন্যায্য প্রতিবেদন হতে পারে?’

তাহলে কি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা একেবারেই দায়ী নন—এই প্রশ্নে জয় বলেন, ‘আমি মোটেও তা বলছি না। আমি বলছি, আমরা কাউকে দায়মুক্তি দিইনি। যে কেউ যদি কোনো মৃত্যুর জন্য দায়ী হয়ে থাকে, তার বিচার হওয়া উচিত।’

শেষে শেখ হাসিনাও সেই বিচারের আওতায় আসতেন কি না—এই প্রশ্নে তাঁর ছেলে বলেন, ‘আমার মা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি। আমার মা কোনো মৃত্যু চাননি।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন