আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকবে: তারেক রহমান
● সবাই যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারেন, এটা নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি। ● লেখাপড়াকে সহজ ও আনন্দমুখর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ—এই দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর মতে, এই দুই ক্ষেত্র ঠিকভাবে সামাল দিলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান অনেকাংশে সম্ভব হবে।
বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণ–তরুণীর সঙ্গে একান্ত আলাপে নিজের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। এ আলোচনায় তার মেয়ে জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে এ অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে বিজয়ীরা বিভিন্ন বিষয়ে কখনো তারেক রহমানকে প্রশ্ন করেন, কখনো তাঁর মতামত জানতে চান। বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপের জন্য কোনো মঞ্চ রাখা হয়নি। পার্কের উত্তর–পূর্ব দিকে লেকের ওপর কাঠের পাটাতনের উন্মুক্ত জায়গায় ১২টি চেয়ার রাখা হয়েছিল। এ আয়োজনে কোনো সাউন্ড সিস্টেমও ব্যবহার করা হয়নি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে আইনশৃঙ্খলা। সবাই যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। আর দুর্নীতি যেভাবেই হোক, তা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি আছে, বিভিন্ন পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। এই দুই বিষয়—আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ—যদি ভালোভাবে সামাল দেওয়া যায়, তাহলে দেশের অন্য সমস্যাগুলোর অনেকাংশ সমাধান হয়ে যাবে।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিজের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে ঢাকার পূর্বাচলে গণসংবর্ধনায় তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। তবে সেদিন তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলেননি। পরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সমাবেশে বিক্ষিপ্তভাবে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, ২৫ কোটি গাছ রোপণসহ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাজধানীর যানজট নিয়ে তারেক রহমান বলেন, তিন কোটির বেশি মানুষের এই শহরে যানজটের পেছনে সড়কের নকশা, গণপরিবহন ও সব সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়া সহ নানা কারণ রয়েছে। এর সমাধান হিসেবে মনোরেল চালু করা, রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নত করা এবং রাজধানীর ভেতরে ছোট ছোট স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলাসহ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মেট্রোরেল প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এটি ব্যয়বহুল। বিকল্প হিসেবে মনোরেল ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে, যা সহজে বসানো যায়, প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব এবং যাত্রীদের খরচও কম হতে পারে।
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তিনি লেখাপড়াকে সহজ ও আনন্দমুখর করতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘যখন আগ্রহ তৈরি হবে, তখন শিশুরা আনন্দ নিয়ে পড়ালেখা করবে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, স্কুলে ভূগোলের মতো বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০ নম্বর খেলাধুলায় দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা যে খেলায় আগ্রহী, সেই খেলায় অংশগ্রহণ করেই তারা পাস করার সুযোগ পাবেন।
সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে একটি টিমের আওতায় এনে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তারেক রহমানের।
একটি ভিডিও দেখার প্রসঙ্গে, যেখানে গাছে বেঁধে একটি কুকুরকে পিটিয়ে মারা হয়েছে, তিনি বলেন, এভাবে কেন কুকুর পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে, বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় পশুপাখি লালন-পালনের বিষয়টি যুক্ত করার চিন্তাও রয়েছে তারেক রহমানের।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বামীহারা নারী, সিঙ্গেল মাদার বা নানা সামাজিক সমস্যায় থাকা নারীরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় বর্তমানে ১৩৮টি প্রজেক্ট চালু আছে। কিন্তু এগুলো ঠিকমতো সমন্বিত নয়। একজন তিনটি সুবিধা পাচ্ছেন, আরেকজন একটাও পাচ্ছেন না। আমরা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এটিকে সমন্বিত করতে চাইছি। এটিকে আমরা সর্বজনীন রাখতে চাই।’
রিল–মেকিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জন হলেন তৌফিকুর রহমান, ফাতিহা আয়াত, রাফায়েতুল আহমেদ, শেখ রিফাদ মাহমুদ, মো. ইসরাফিল, সাজেদুর রহমান, শেখ মো. ইকতারুল ইসলাম, জারিন নাজনীন, রিফাত হাসান ও রামেসা আনজুম।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের হয়রানি বন্ধে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা তোলেন রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার একজন বিজয়ী। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সাইবার বুলিং ও অ্যাসিডের ভয়াবহতা সম্পর্কে যদি শুরু থেকেই শিশুদের ধারণা দেওয়া যায়, তাহলে একসময় তারা বুঝতে পারবে কোনটা ন্যায়, কোনটা অন্যায়।
এই আলাপের এক পর্যায়ে তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্ত হন জাইমা রহমানও। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুদের শেখানো যায় কোনটা সঠিক আর কোনটা সঠিক নয়, তাহলে যেকোনো ধরনের হয়রানি–নিপীড়ন অনেক কমে আসবে। এছাড়া ডিজিটাল এডুকেশনও দরকার, যাতে শিশু ও তরুণরা জানে অনলাইনে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে আলোচনায় জাইমা রহমান বলেন, ফেসবুকসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর স্থানীয় কার্যালয় বাংলাদেশে নেই। এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে দেশে আনা প্রয়োজন।



Comments
Comments