মূল লড়াই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম ধর্মীয় আবেগ
| কেরামত আলী ও শাহজাহান আলি মিঞা | ছবি: সংগৃহীত |
সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ উপজেলাকে কেন্দ্র করে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে ভোটের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা—প্রতিটি জায়গাতেই নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও, দলটির প্রচুর ‘ভোট ব্যাংক’ কার দিকে ঝুঁকবে, তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই আসনে মূল লড়াই হচ্ছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ এবং ‘ধর্মীয় আবেগ’ দুই দিকের ভোটারের মধ্যে।
এবার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। তবে মূল টক্কর হচ্ছে হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর মধ্যে। একজন হলেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক (অব.) মো. শাহজাহান আলি মিঞা। অন্যজন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কেরামত আলি ।
অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল হালিম , ইসলামী আন্দোলনের মনিরুল ইসলাম এবং ইসলামী ফ্রন্টের শামসুল হোদা।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত এই আসনে রয়েছে একটি পৌরসভা এবং ১৫টি ইউনিয়ন। মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৮১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩১৬ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৫। এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৭।
নির্বাচনী ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি ছিল। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। জামায়াতে ইসলামী এখানে আগে কখনো জয়লাভ করতে পারেনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. কেরামত আলি পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, কৃষি ও আমের বাজার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তাঁর প্রচারণায় ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে পাড়া-মহল্লায় নারী কর্মীদের মাধ্যমে ‘তালিম’ ও ‘তাফসির’ আড়ালে ভোট চাইতে দেখা যাচ্ছে। কিছু ভোটার অভিযোগ করেছেন, 'পরকালীন মুক্তির দোহাই দিয়ে ভোট চাইছে।'
এ বিষয়ে ড. কেরামত আলি বলেন, 'মানুষের ব্যাপক সাড়া দেখে প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ, ফল প্রকাশের দিনই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।'
বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান আলি মিঞা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে জনমত তৈরি করছেন। তাঁর প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের সন্তান এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা। নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, মাদক নির্মূল, বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং বেকার সমস্যা সমাধান।
এই আসনে জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি এখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকদের হাতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সমর্থক জানিয়েছেন, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকেই (বিএনপি প্রার্থী) বেছে নিতে আগ্রহী।'
অন্যদিকে, বিএনপির অভ্যন্তরে কোনো প্রকাশ্য কোন্দল না থাকলেও কিছু অংশ গোপনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১
Comments
Comments