[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

এনসিপির প্রার্থী ২৬ উচ্চশিক্ষিত, চল্লিশোর্ধ মাত্র চারজন

প্রকাশঃ
অ+ অ-

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)

জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের নির্বাচনী সমঝোতায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দলের ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জন উচ্চশিক্ষিত। দুই প্রার্থী পিএইচডি করেছেন, ১৮ জনের মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি আছে। এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসক এবং চারজন স্নাতক পাস।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

এনসিপির বাকি চার প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি বা সমমানের। এর মধ্যে একজন (আবদুল হান্নান মাসউদ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে চল্লিশোর্ধ বয়সের মাত্র চারজন। তবে হলফনামায় তিনজন প্রার্থীর বয়স উল্লেখ করা হয়নি।

নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপি যে ৩০টি আসন পেয়েছে, তার মধ্যে একটি আসন (মৌলভীবাজার-৪) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জন্যও উন্মুক্ত। এই আসনে এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশ। তিনি দল থেকে নির্বাচন করা একমাত্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী।

পিএইচডি করা প্রার্থী আছেন ২ জন, মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি আছে ১৮ জনের। এ ছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে চিকিৎসক ২ জন, স্নাতক পাস ৪ জন।

এনসিপির ৩০ প্রার্থীর মধ্যে দুইজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী। তারা হলেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের আতিকুর রহমান মোজাহিদ এবং পিরোজপুর-৩ আসনের মো. শামীম হামিদী।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করেছেন ১৮ জন। তাঁদের মধ্যে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দুই প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম রয়েছেন। আখতার রংপুর-৪, পাটওয়ারী ঢাকা-৮, হাসনাত কুমিল্লা-৪ এবং সারজিস পঞ্চগড়-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তালিকায় এনসিপির দুই নারী প্রার্থী দিলশানা পারুল ও নাবিলা তাসনিদও আছেন। পারুল ঢাকা-১৯ এবং নাবিলা ঢাকা-২০ আসনে প্রার্থী।

স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রার্থী চারজন। এদের মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামও রয়েছেন।

এর বাইরে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী মো. আবদুল আহাদ দিনাজপুর-৫ আসনে এবং বিডিএস (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারী জাহিদুল ইসলাম ময়মনসিংহ-১১ আসনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারোয়ার তুষার (নরসিংদী-২), প্রীতম দাশ (মৌলভীবাজার-৪) এবং এস এম সাইফ মোস্তাফিজ (সিরাজগঞ্জ-৬) এইচএসসি পাস।

স্নাতকোত্তর করেছেন, এনসিপির এমন প্রার্থী ১৮ জন। তাঁদের মধ্যে দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং দুই মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম রয়েছেন।

এনসিপির মনোনয়ন পাওয়া ৩০ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের বয়স হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। বাকি ২৭ জনের গড় বয়স ৩৪ বছর। দলের সবচেয়ে প্রবীণ প্রার্থী নাটোর-৩ আসনের এস এম জার্জিস কাদির। তিনি ৬৪ বছর বয়সী, রাজশাহীর নিউ ডিগ্রি গভ. কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং বর্তমানে এনসিপির নাটোর জেলার সদস্যসচিব।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, চল্লিশোর্ধ প্রার্থী আরও তিনজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন দিলশানা পারুল (ঢাকা-১৯), সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (নোয়াখালী-২) ও মাজেদুল ইসলাম (মুন্সিগঞ্জ-২)।

৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী প্রার্থী ১২ জন। এই তালিকায় আছেন আরেক নারী প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ (ঢাকা-২০)।

সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থীরা হলেন নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। তাঁদের বয়স ২৭। এছাড়া এনসিপির ১০ জন প্রার্থী ৩০ বছরের মধ্যে। এই তালিকায় দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনও আছেন, বয়স ২৮।

এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে ৮ জন পেশা হিসেবে লিখেছেন ‘ব্যবসা’। তাঁরা হলেন হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, হান্নান মাসউদ, মাহবুব আলম (লক্ষ্মীপুর-১), নাবিলা তাসনিদ, আতাউল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), এস এম সাইফ মোস্তাফিজ ও মো. ফাহিম রহমান খান (নেত্রকোনা-২)। কুড়িগ্রাম-২ আসনের আতিকুর রহমান মোজাহিদ শিক্ষকতা ছাড়াও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

চারজন প্রার্থী পেশা হিসেবে লিখেছেন ‘পরামর্শক’। তাঁদের মধ্যে আছেন ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ঢাকা-৮ আসনের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেশায় ‘বিপণন পরামর্শক’, ময়মনসিংহ-১১ আসনের জাহিদুল ‘ফ্রিল্যান্সার পরামর্শক’ এবং রাজবাড়ী-২ আসনের জামিল হিজাযী পেশায় ‘লেখক, পরামর্শক ও ব্যবসায়ী’।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির দুজন প্রার্থী সাংবাদিক। তাঁরা হলেন বান্দরবান আসনের আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের মো. জোবাইরুল হাসান। ঢাকা-১৮ আসনের আরিফুল ইসলাম আদীব পেশায় ‘ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা ও ব্যবসা’।

এর বাইরে একজন প্রার্থী পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ‘উন্নয়নকর্মী’, একজন লিখেছেন ‘কৃষি’, আরেকজন ‘ব্যাংকিং’। এছাড়া একজন চিকিৎসক, একজন লেখক, দুজন আইনজীবী, দুজন শিক্ষক, একজন শিক্ষক ও গবেষক, একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং একজন পেশা হিসেবে লিখেছেন ‘চাকরি’।

এনসিপিতে সবচেয়ে কম বয়সী প্রার্থীরা হলেন নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। তাঁদের বয়স ২৭। তাঁরাসহ এনসিপির ১০ জন প্রার্থীর বয়স ৩০-এর মধ্যে। এই তালিকায় দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনও (২৮) আছেন।

এনসিপির ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে বার্ষিক আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে কম আয় রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আশরাফ উদ্দিন মাহদীর। তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। পেশা শিক্ষক।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আয় করেন নোয়াখালী-২ আসনের সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার। তাঁর বার্ষিক আয় ৫০ লাখ টাকা। পেশা শিক্ষকতা ও গবেষণা।

সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে ধনী ঢাকা-২০ আসনের নাবিলা তাসনিদ। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬৪ হাজার ৩২৭ টাকা। এছাড়া তাঁর কাছে ৪০ ভরি সোনা রয়েছে, যার মূল্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের মাজেদুল ইসলাম। তাঁর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৮০ টাকা।

নাটোর-৩ আসনের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জার্জিস কাদিরের সম্পদ ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৩ হাজার ৫২৯ টাকা। কোটির ঘরে থাকা আরও একজন হলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের মাহবুব আলম। পেশায় ব্যবসায়ী মাহবুবের সম্পদ ১ কোটি ৫ লাখ ২৪ হাজার ৬১৮ টাকা। তাঁর পরের অবস্থানে আছেন নোয়াখালী-৬ আসনের ব্যবসায়ী আবদুল হান্নান মাসউদ, যার সম্পদ ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা।

সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে কম ‘দরিদ্র’ প্রার্থী হল নরসিংদী-২ আসনের সারোয়ার তুষার। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পদ ৩ লাখ টাকা।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন