মধ্য শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে নওগাঁয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড
![]() |
| কুয়াশা না থাকলেও নওগাঁয় বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কর্মক্ষেত্রে ছুটেছেন কর্মজীবী মানুষেরা। বুধবার সকাল ৯টার দিকে নওগাঁ শহরের বিজিবি ব্রিজ এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, নওগাঁয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। হাড় কাঁপানো শীতে বিপাকে পড়েছেন এ এলাকার মানুষ। আজ বুধবার সকাল ৯টায় নওগাঁর বদলগাছীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি শীত মৌসুমে এটি এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, জানানো হয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজশীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রেকর্ড হয়েছিল।
নওগাঁয় সকালে কুয়াশা কমলেও রোদ উঠার পরও উত্তরের হিমেল বাতাস বইতে থাকায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে গেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় রিকশাচালক খবির উদ্দিন বলেন, ‘রোদ উঠেছে, তারপরও ঠান্ডার চোটে হাত-পা কাঁপছে। মনে হচ্ছে হাত-পার রগ জড়িয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডার কারণে রিকশার হ্যান্ডেল ঠিকভাবে ধরতে পারছি না, কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে দিনমজুর মিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘তিন-চার দিন ধরে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বাড়িতে বসে ছিলাম। আজ সকালেও খুব ঠান্ডা, তারপরও রোদ ওঠায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছি। কিন্তু বাতাস এত তীব্র যে চাদর জড়িয়ে ঠান্ডা কমছে না।’
বদলগাছী আবহাওয়া কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, কুয়াশা কমে রোদ উঠলেও আকাশ পরিষ্কার থাকায় উত্তরের হিমেল হাওয়ার গতি বেড়েছে। এ কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। তিনি জানান, এমন আবহাওয়া আরও দু-তিন দিন থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, চলতি মাসে আরও তিন-চারটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

Comments
Comments