বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণ
![]() |
| বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬—২০২৫ |
জীবদ্দশায় তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, ...এই দেশ, এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষই আমার সবকিছু।’ দেশ, মাটি ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সেই গভীর বন্ধন ছিন্ন করে চিরবিদায় নিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা এই আপসহীন নেত্রী গতকাল মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
২৩ নভেম্বর শেষ দফায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই খালেদা জিয়া কার্যত জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশি ও বিদেশি চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গতকাল সকালে তিনি চিরবিদায় নেন। এ সময় বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা শয্যাপাশে উপস্থিত ছিলেন।
![]() |
| নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ হাতে খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে তোলা |
দলীয় প্রধানের মৃত্যুর খবর ‘মহাকালের সমাপ্তি’ শিরোনামে বিএনপি তাদের মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে। সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুঠোফোনে দলের শীর্ষ নেতাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আম্মা আর নেই।’
খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে গৃহবধূ থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা দ্যুতি ছড়ানো এক গৌরবময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। তাঁর মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। সরকার তাঁর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি বিএনপি সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আজ বুধবার বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে শেরেবাংলা নগরে (জিয়া উদ্যান) স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
স্বজনদের কান্নার রোল
![]() |
| খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শোকবই খোলা হয়েছে | ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ |
২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর প্রতিদিনই হাসপাতালে মাকে দেখে বাসায় ফিরতেন তারেক রহমান। গত সোমবার বিকেলে তিনি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে রাত ১০টার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে মাকে দেখতে যান। রাত দুইটার দিকে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হন এবং তিনটার দিকে গুলশানের বাসায় ফেরেন। তারেক রহমান হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর রাত দুইটার পরপর সংবাদ ব্রিফিং করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের সদস্য ও বিএনপির নেতা এ জেড এম জাহিদ। তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন অত্যন্ত সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, রাত চারটার দিকে তারেক রহমানকে জানানো হয় যে খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ। তখন তিনি মাত্র বিশ্রামে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে দ্রুত আবার হাসপাতালে ছুটে যান তারেক রহমান। একে একে পরিবারের অন্য সদস্যরাও হাসপাতালে পৌঁছান। চিকিৎসকেরাসহ পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়াকে রাখা আইসিইউতেই অবস্থান করেন। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব আতিকুর রহমান। তিনি পরিস্থিতির বর্ণনা করে বলেন, তখন হাসপাতালের আইসিইউতে কান্নার রোল পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন তারেক রহমান।
সকাল আটটায় হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলন করে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক মহল শোক প্রকাশ করেছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর শোক।
শেষ দিনগুলোতে ছিলেন সংজ্ঞাহীন
![]() |
| রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়া | ফাইল ছবি |
সিসিইউতে থাকার সময় একদিন শয্যাপাশে থাকা ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানের সঙ্গে তিনি সামান্য কথা বলেন। এরপর ১৯ ডিসেম্বর জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ থেকে লন্ডন যাওয়ার সময় বিদায় নিতে গেলে খালেদা জিয়া সামান্য মাথা নেড়ে বিদায় জানান।
গৃহকোণ থেকে রাজনীতিতে
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছিল হঠাৎ, তবে তাঁর পথচলা ছিল দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি গভীর সংকটে পড়ে। নেতৃত্বশূন্য দল, অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তখন তিনি ছিলেন একজন গৃহবধূ। রাজনীতিতে আসার কোনো পূর্বপ্রস্তুতি তাঁর ছিল না। তবে সময়, পরিস্থিতি ও নেতৃত্বের শূন্যতার কারণে তিনি দলের দায়িত্ব নেন এবং দ্রুত সামনে চলে আসেন।
বিএনপির সদস্য হিসেবে তিনি প্রথমে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসন হন। রাজনীতিতে আসার ১০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি দলীয় প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
বিএনপির নেতাদের মতে, খালেদা জিয়া মানে স্বৈরাচারকে ‘না’ বলা, আর গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ‘হ্যাঁ’ বলা। আজীবন এই আদর্শই ছিল তাঁর আপসহীন সংগ্রামের মূলমন্ত্র। ক্ষমতায় থাকার সময় শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিশেষ করে নারীশিক্ষার অগ্রগতি, অ্যাসিড–সন্ত্রাস প্রতিরোধ, সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, শিল্পের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন ছিল তাঁর সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উত্থান
![]() |
| খালেদা জিয়া (জন্ম ১৯৪৫–মৃত্যু ২০২৫) |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এরশাদবিরোধী আন্দোলনই খালেদা জিয়াকে প্রকৃত অর্থে জাতীয় নেত্রীতে পরিণত করে। ১৯৮৩ সালে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ৭-দলীয় ঐক্যজোট। টানা নয় বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি পরিচিত হন ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে।
খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হন—১৯৯১, ১৯৯৬ (স্বল্পকাল) এবং ২০০১ সালে। ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি যেমন বহু দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তেমনি প্রয়োজনে সমঝোতার পথেও হেঁটেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রশ্নে শুরুতে দ্বিমত থাকলেও জনদাবির মুখে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন এবং প্রয়োজনে নিজের অবস্থান থেকেও সরে আসতেন।
বাংলাদেশে জোটভিত্তিক রাজনীতির বিস্তারে খালেদা জিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ৭-দলীয় জোটের পর ১৯৯৯ সালে তিনি ৪-দলীয় জোট গঠন করেন, যা ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ১৮-দলীয় ও ২০-দলীয় জোটের নেতৃত্ব দেন। দেশের স্বার্থে সমমনা কিংবা ভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করাও ছিল তাঁর রাজনীতির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
আপসহীন সংগ্রামের পাশাপাশি সংলাপ ও সমঝোতার পথ তিনি কখনো পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন, জোটভিত্তিক রাজনীতির বিস্তার এবং জাতীয় সংকটে আলোচনার উদ্যোগ—সবই তাঁর বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে।
এক-এগারো ও কঠিন সময়
![]() |
| ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকার আদালতে খালেদা জিয়া | ফাইল ছবি |
২০০৭ সালের এক-এগারোর পর খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ ঝড়। জরুরি অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হন তাঁর দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোও। তাঁকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি দেশ ছাড়বেন না। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এই দেশ, এই দেশের মানুষই আমার ঠিকানা।’
এর পরের সময়গুলো ছিল তাঁর জীবনের আরও কঠিন অধ্যায়। ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদ, গুলশানের বাসভবনে অবরুদ্ধ জীবন এবং দলীয় কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড—সব মিলিয়ে নানা চাপ ও সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটে তাঁর।
এই রাজনৈতিক দমন–পীড়নের সময়েই ২০১৫ সালে তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের মৃত্যু হয়। তখন খালেদা জিয়া নিজেও ছিলেন অবরুদ্ধ অবস্থায়। সে সময় এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি স্বামী হারিয়েছেন, মা হারিয়েছেন, সন্তান হারিয়েছেন, তবু দেশবাসীই তাঁর স্বজন। এই বক্তব্যই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে মানবিক দলিল হয়ে আছে।
রাজনীতিতে চার দশক ধরে উচ্চারিত একটি নাম
![]() |
| পুরান ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়া। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ফাইল ছবি |
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু বয়স, দীর্ঘ কারাবাসের শারীরিক-মানসিক ধকল এবং শারীরিক জটিলতা মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাও তাঁকে ফেরাতে পারেনি।
মায়ের মৃত্যুর পর দেওয়া এক শোকবার্তায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমার মা—বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া—সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মা। আমার কাছে তিনি ছিলেন একজন মমতাময়ী মা, যিনি নিজের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন দেশ ও মানুষের জন্য।’
তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করা এই নারী বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবু তিনি ভেঙে পড়েননি। দেশ ও দেশের মানুষই ছিল তাঁর পরিবার।
দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর মুক্তি পান খালেদা জিয়া। গত ৭ আগস্ট নয়াপল্টনের এক সমাবেশে দেওয়া তাঁর সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তা নতুন প্রজন্মকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি বলেছিলেন, ‘ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়; ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।’
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠেন। তাঁর বিদায়ও হয়ে উঠেছে গৌরবময়। দলমত-নির্বিশেষে সব মহল থেকে তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। তাঁর মৃত্যুর পর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক জানিয়েছেন সব দল এবং নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে ওঠে শোকময়। সম্প্রতিকালে এত সম্মান ও শ্রদ্ধা নিয়ে কোনো রাজনীতিক বিদায় নেননি।
একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি
![]() |
| খালেদা জিয়া (১৯৪৫–২০২৫) | তারেক রহমানের ফেসবুক পেজ থেকে |
খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বর্ণিল অধ্যায়। তিনি রেখে গেছেন এক অবিস্মরণীয় জনস্মৃতি। তিনি আর নেই। কিন্তু থেকে যাবে তাঁর সংগ্রাম, তাঁর সিদ্ধান্ত, তাঁর বিতর্ক, তাঁর সাহস এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে খচিত একটি নাম: বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশ আজ শোকাহত।
বিএনপির চেয়ারপারসনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলের গুলশান ও নয়াপল্টনের কার্যালয় এবং তাঁর বাসভবনের সামনে ভিড় করেছেন অনুসারীরা। তাঁদের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল। তাঁর সঙ্গে সমাপ্তি ঘটল দেশের রাজনীতির এক আলোচিত অধ্যায়ের।








Comments
Comments