[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

গফরগাঁওয়ে বিএনপির মনোনয়ন বাতিল দাবি, সড়ক ও রেলপথের বিভিন্ন স্থানে আগুন

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে রেলপথে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ। শনিবার বিকেলে উপজেলার শিবগঞ্জ রোড এলাকায়  | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। শনিবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রে এ প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়। এরপরই মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা সড়ক ও রেলপথের বিভিন্ন স্থানে আগুন দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন।

বিকেল চারটার দিকে গফরগাঁও উপজেলার শিবগঞ্জ রোড রেলক্রসিংয়ে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা আগুন দেন। এর বাইরে উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ও বাজারে আগুন দেওয়ার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রেলস্টেশন এলাকায় তারা তাণ্ডব চালিয়ে স্টেশনমাস্টারকে বের করে স্টেশন তালাবদ্ধ করে দেন। রেলপথের দুই পাশের স্টেশনগুলোতে ট্রেন আটকা পড়ে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মো. আকতার হোসেন জানান, মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকেরা রেলপথে আগুন দিয়েছে। এ কারণে বিকেল চারটা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, বলা যাচ্ছে না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ-১০ আসনে মনোনয়ন পাওয়া মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ছাড়াও আরও পাঁচজন নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তাঁরা হলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, সদস্য মুশফিকুর রহমান, আল ফাত্তাহ ও মোফাখখারুল ইসলাম। শনিবার মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই মনোনয়নবঞ্চিত এ বি সিদ্দিকুর রহমান ও মুশফিকুর রহমানের সমর্থকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে সড়কে আগুন দিয়ে দলীয় প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের পাশাপাশি ময়মনসিংহ-গফরগাঁও ও গফরগাঁও-ভালুকা সড়কপথেও যোগাযোগ বন্ধ থাকে। গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, পৌর শহরের কয়েকটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছেন।

মনোনয়নবঞ্চিত মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রত্যাশিত মনোনয়ন না হওয়ায় বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম হচ্ছে। এখানে শুধু আমার নেতা-কর্মী নয়, সব গ্রুপের নেতা-কর্মীরাই আছে। দল যে প্রার্থী দিয়েছে, সেটি দলের। রাজনীতি জনগণের জন্য, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জনগণ কীভাবে দেখবে, সেটাই দেখার বিষয়।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী এ বি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, সে এমপি হওয়ার যোগ্য নয়। মানুষ তা মানছে না। গফরগাঁওয়ের রাস্তাঘাট সব বন্ধ করা হয়েছে। এখানে তার মতো লোককে কেন মনোনয়ন দেয় দল? তার যোগ্যতা নেই।’

দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ বলেন, ‘দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে আমরা সাধুবাদ জানাই। হয়তো ভবিষ্যতে আমার জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।’

মনোনয়ন পাওয়া মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, ‘আমি মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকার মানুষ আনন্দমিছিল করছে। এলাকার উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে। কিছু দুষ্কৃতকারী সশস্ত্র অবস্থায় গুপ্তভাবে বিশৃঙ্খলা করছে। এটি দু-এক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।’

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ চালুর চেষ্টা চলছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। বিভিন্ন রাস্তায় বিক্ষুব্ধরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে। তাদের বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দলীয় শীর্ষ নেতাদেরও বলা হয়েছে, যাতে নেতা-কর্মীদের শান্ত করা হয়।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন