[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে হাজং পল্লিতে দেউলী উৎসব

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সুনামগঞ্জের হাজং পল্লিতে সম্প্রীতির দেউলী উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করে শিশুরা। বুধবার বিকেলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কাইতকোনা গ্রামে সুনামগঞ্জের হাজং পল্লিতে সম্প্রীতির দেউলী উৎসব | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কাইতকোনার বাসিন্দাদের অধিকাংশই হাজং সম্প্রদায়ের। এ হাজং পল্লির মানুষদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রীতির ‘দেউলী উৎসব’।

‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে গতকাল বুধবার উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজন করে ‘বিশ্বম্ভরপুর ইয়ুথ পিচ অ্যাম্বাসেডর গ্রুপ’। বিকেলে ছিল সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আয়োজকরা জানান, হাজং সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী দেউলী পৌষ উৎসবের মূল লক্ষ্য বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করা এবং হাজং জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশ করা।

উৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় প্রবীণ সংগীতশিল্পী চন্দনা হাজং। বিশ্বম্ভরপুর ইয়ুথ পিচ অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের সমন্বয়কারী কুহিনুর বেগমের সভাপতিত্বে ও সংগঠক সামছুল কবিরের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তব্য দেন আরও অনেকে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বিশ্বম্ভরপুর পিচ ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের পিচ অ্যাম্বাসেডর সিরাজ খন্দকার, সমন্বয়কারী ফুলমালা বেগম, সুনামগঞ্জ সদর পিচ অ্যাম্বাসেডর সিরাজুল ইসলাম, সদস্য নুরুল হাসান, মসিউর রহমান ও কর্ণ বাবু দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রতিনিধি কুদরত পাশা।

বক্তারা বলেন, হাজং সম্প্রদায় একটি ঐতিহ্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা জনগোষ্ঠী। তাঁদের কৃষিভিত্তিক ও ধর্মীয় অনেক উৎসব এখন বিলুপ্তির পথে। দেউলী পৌষ উৎসব হাজং সম্প্রদায়ের অন্যতম বর্ণিল ও জীবনঘনিষ্ঠ উৎসব হলেও দীর্ঘদিন ধরে আয়োজনের বাইরে ছিল। এবার উৎসবটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় হাজং পল্লিতে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।

কুদরত পাশা জানান, এ আয়োজনের মাধ্যমে হাজং জনগোষ্ঠী যেন নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, ঐতিহ্য ও কৃষ্টির প্রতি আরও সচেতন হয় এবং গর্ববোধ করে—সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ। আধুনিকায়নের চাপে অনেক লোকজ উৎসব হারিয়ে গেলেও দেউলীর মতো প্রাচীন উৎসবের পুনরুজ্জীবন হাজং সংস্কৃতিকে নতুন করে শক্তিশালী করবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় হাজং সম্প্রদায়ের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে গাঁও, সন্ধানী, লিওয়াটানা ও আহিসে বৈশাখী নৃত্য পরিবেশন করেন হাজং নারী ও শিশুরা। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত হাজং শিল্পীরা নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষ হয় পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন