[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে আগুন, এক কর্মচারীর মৃত্যু

প্রকাশঃ
অ+ অ-
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীতে জেটিতে ভেড়ার আগমুহুর্তে আগুন লাগে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ আটলান্টিক ক্রুজে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ড আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ সকালে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীতে সেন্ট মার্টিনগামী একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটির নাম ‘এমভি আটলান্টিক ক্রুজ’। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। রক্ষা পেয়েছেন যাত্রার জন্য ঘাটে অপেক্ষমাণ ১৯৪ জন পর্যটক।

আজ শনিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে কক্সবাজার সদরের নুনিয়াছটা বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাটে আগুনের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনের সময় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক দল।

জাহাজমালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর আগুনের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এমভি আটলান্টিক ক্রুজ প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক পর্যটক পরিবহন করে। আজ সকালেও সেন্ট মার্টিনে যাত্রী নেওয়ার জন্য জেটিঘাটে ভেড়ার চেষ্টা করছিল জাহাজটি। এ সময় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।

কক্সবাজার ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, জাহাজের কর্মচারী নুর কামাল (৩৫) পুড়ে মারা গেছেন, তিনি একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। আরও কেউ আছেন কিনা তা খোঁজা হচ্ছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রার মাত্র ১৫ মিনিট আগে জাহাজে আগুন লেগেছে। আর কিছুক্ষণের ব্যবধান হলে ভয়াবহ বিপদ ঘটতে পারত।

জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জেলা প্রশাসক বলেন, বড় বিপদ থেকে পর্যটকরা রক্ষা পেয়েছেন। জাহাজে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

জাহাজ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, জাহাজটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন লাগার সময় জাহাজে কোনো পর্যটক ছিলেন না। যাত্রীদের অন্য জাহাজে করে সেন্ট মার্টিন পাঠানো হয়েছে।

আটলান্টিক ক্রুজে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী মীর আসলাম বলেন, চার দিন আগে তিনি আটলান্টিক ক্রুজের টিকিট কেটেছিলেন। স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে জাহাজে ওঠার জন্য জেটিঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ ঘাটের দিকে ভিড়তে থাকা জাহাজে আগুন দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। একটু পর এই দুর্ঘটনা হলে সবাই বিপদে পড়তাম।’

জানা গেছে, সকাল ৭টায় নুনিয়াছটা বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে প্রায় দুই হাজার পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছয়টি জাহাজ যাত্রা করে। এতে ছিল এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও এমভি আটলান্টিকসহ অন্যান্য জাহাজ। ১২০ কিলোমিটারের সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে জাহাজগুলো বেলা দেড়টার দিকে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাবে। এরপর বেলা তিনটায় আগের দিনে যাওয়া পর্যটকদের তুলে জাহাজগুলো আবার কক্সবাজার ফিরবে। এই ব্যবস্থা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন যেতে পারবেন।

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘আজ ১ হাজার ৯৯৩ জন যাত্রী নিয়ে পাঁচটি জাহাজ সেন্ট মার্টিনে গেছে।’

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু রাত যাপনের সুবিধা না থাকায় নভেম্বর মাসে কোনো পর্যটক দ্বীপে যাওয়া যায়নি। ডিসেম্বরে রাত যাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্ট মার্টিনে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকরা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন