[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

এবার এনসিপি ছাড়লেন তাজনূভা জাবীন

প্রকাশঃ
অ+ অ-
তাজনূভা জাবীন | ছবি: তাজনূভার ফেসবুক থেকে নেওয়া

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমঝোতার খবরের মধ্যে দলটির আরেক নেত্রী তাজনূভা জাবীন পদত্যাগ করেছেন। রোববার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এনসিপিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন তাজনূভা জাবীন। তার পদত্যাগের আগের দিনই দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।

তাজনূভা জাবীন লিখেছেন, কমা ভেবেছিলাম, জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পদত্যাগ করব। শেষ পর্যন্ত আশায় ছিলাম। কিন্তু গতকাল সবাই নিশ্চিত করেছে যে এই জোটে সিল পড়েছে। আমার পদত্যাগের কারণ যতটা না জোট, তার চেয়ে বেশি যে প্রক্রিয়ায় এই জোট হয়েছে। অবিশ্বাস ও অনাস্থাই এর মূল কারণ। কমা

তিনি আরও লিখেছেন, কমা দল অনেক বড় করে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে অনেক কিছু বিবেচনা করে ছাড় দেওয়া যেত। কিন্তু গঠনের শুরুতেই বলা হচ্ছে আগে সংসদে যেতে হবে, তারপর যে কজন এমপি হবেন তাদের কেন্দ্র করে সংগঠন বড় হবে। কী এক অবস্থা! কমা

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ১০ ডিসেম্বর ১২৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। এর মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হিসেবে তাজনূভা জাবীনের নাম ছিল। এই আসনে বিএনপি থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের মেয়ে তাজনূভা বলেন, কমা আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটের ঐতিহাসিক কারণ বা নারী অধিকারের প্রশ্নে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ংকর কারণ হলো যে প্রক্রিয়ায় এটি হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল বা নির্বাচনী জোট বলা হচ্ছে, কিন্তু আমি বলব এটি পরিকল্পিত। সাজিয়ে বিষয়টিকে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে। কমা

তিনি আরও বলেন, কমা এটি আদর্শের চেয়েও বড় বিশ্বাসের প্রশ্ন। মাত্র কিছুদিন আগে ঘটা করে সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হলো। অথচ এখন ৩০ জনের জন্য আসন সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না—এমন সিদ্ধান্তে সিলমোহর বসানো হয়েছে। বিষয়টিকে একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। আগামীকাল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। আমার অবশ্য এই মুহূর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ইচ্ছা নেই। পুরো বিষয়টিকে অগোছালো করে চোখের পলকে অস্বীকার করা হয়েছে। কমা

তিনি বলেন, কমা বিভিন্ন পত্রিকায় খবর আসছে যে আমি মনোনয়ন হারানোর ভয়ে জোটের বিরোধিতা করছি। আমি কিছুদিন আগে লিখেছিলাম, আমার আসনে আলোচনা হলে আমি নির্বাচন করব না, তবে প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক আমি লড়ব। কিন্তু তারা লড়তে দিল না। তাদের গোষ্ঠীর ভাইয়েরা এই জোটের পক্ষে দিস্তা দিস্তা লিখে ভরিয়ে ফেলছে। কমা

কমা কিন্তু সাধারণ সভা বা ইসি মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত এমন ছিল না যে, জোট হলে বাকি আসনের প্রার্থীদের বসে যেতে হবে। আবার অন্য আসনগুলোতে জামায়াতের হয়ে প্রচার চালাতে হবে। জামায়াতের সাথে চরমোনাই পীরের ৭০টি আসনে সমঝোতা হচ্ছে, আর গণ-অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দলের হচ্ছে ৩০টি আসনে। কমা

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনা করা চিকিৎসক তাজনূভা বলেন, কমা সবাই বলছেন রাজনীতি অনেক লম্বা পথ। একদম ঠিক। কিন্তু সেই নীতি এনসিপির নিজেরই নেই। কমা

কমা নেতারা একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়ে সেটাকে বিপ্লব নাম দিচ্ছেন। আর আমাদের মতো যারা এনসিপির নীতি ধারণ করেছি, তাদের ওপর ‘আবেগী’ তকমা দেওয়া হচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘোষণাপত্র থেকে শুরু করে সবশেষ ডেইলি স্টারের বিতর্কে বলা কথা শীর্ষ নেতারা কতটুকু মেনে চলেন, সময়মতো মিলিয়ে নিয়েন। কমা

তিনি লিখেছেন, কমা ওই পুরোনো ফাঁকা বুলির রাজনীতি করতে হলে পুরোনো দলই করতাম, নতুন কেন? জামায়াতের সাথে জোট প্রসঙ্গে বলি, এনসিপি নিজের স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়ালে যে কারও সাথে জোটে অসুবিধা ছিল না। সেটা পাঁচ বছর পরে হতে পারত, কিন্তু প্রথম নির্বাচনেই কেন? আসলে অন্য সব পথ ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যাতে জামায়াতের সাথে জোট করা ছাড়া কোনো উপায় না থাকে। সুনিপুণভাবে এখানে এনে অনেককে জিম্মি করা হয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয়, এটিই ছিল পরিকল্পনা। কমা

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে এনসিপি যাতে যোগ না দেয়, সেজন্য দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে শনিবার চিঠি দেন ৩০ জন নেতা। তবে সেখানে তাজনূভা জাবীনের নাম নেই। পদত্যাগের ঘোষণার পর নিজের ক্ষোভ জানিয়ে করা এই ফেসবুক পোস্টের কারণে ‘আক্রমণের’ শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, কমা আমার অনেক ব্যর্থতার গল্প সাজানো হবে, চরিত্রহননের চেষ্টা হবে। কিন্তু আমি নিজের কাছে পরিষ্কার। আমি এদের সাথে রাজনীতি করতে এসেছিলাম, এদের বিরুদ্ধে না। আজ আমার মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করার কথা ছিল, আর আমি এখানে বসে এসব লিখছি। কমা

কমা বলা হচ্ছে জোট হবে দেড় মাসের জন্য, এরপর তারা আবার মধ্যপন্থায় ফিরবে। সত্যি বলতে, ফিরে এসে তারা আবার দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামি শুরু করবে। যে জবাবদিহিতার কথা তারা মুখে বলে, সেটা নিজেদের কেউ চাইলে তাকেই বাদ দিয়ে দেয়। কমা

জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর ঠিক ১০ মাসের মাথায় ২৮ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্য তাজনূভা জাবীন।

তিনি লিখেছেন, কমা এনসিপি শুরু থেকে গণপরিষদ, দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র, মধ্যপন্থা, নারী ও বিভিন্ন জাতিসত্তাকে নিয়ে রাজনীতি করার যে কথা বলেছে, তা ধারণ করা হাতেগোনা কয়েকজনের মধ্যে আমি একজন। এই দলের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমি। স্বাভাবিকভাবেই মন খুব খারাপ। কিন্তু এই দল ছাড়া আমার সামনে আর কোনো সম্মানজনক পথ নেই। কমা

কমা দলের খারাপ সময়ে দল ছেড়ে দেওয়াকে অনেকে অরাজনৈতিক বা অপরিপক্কতা বলবেন। এগুলো স্রেফ বাজে কথা। আমি সেখানে বহিরাগত ছিলাম, আমাকে প্রতারিত করা স্বাভাবিক। কিন্তু এক শীর্ষ নেতা আরেক নেতার সাথে যে মাইনাসের রাজনীতি করেন, সেটা ভয়ংকর। এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে এত ব্যস্ত যে, কখনো দেশের জন্য নতুন কোনো মধ্যপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না। কমা

সবার পাঠানো সাহায্যের টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধ করে দেবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন তাজনূভা জাবীন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন