[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ভরাসার বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় উদ্‌যাপন করছে শতবর্ষ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ভরাসার বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ১০০ পাউন্ডের কেক কাটা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা। শীতের সকাল, চারদিক কুয়াশায় ঢেকে গেছে। এমন সময় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ছুটছেন নানা বয়সের মানুষ। তাঁদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। সবাই প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁরা এখানে এসেছেন বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করতে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯২৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন ভরাসার গ্রামের বরম উদ্দিনের ছেলে আফসার উদ্দিন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আজ দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়। এতে প্রায় পাঁচ হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ আবুল বাশার। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পদযাত্রা। দুপুরে বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উপলক্ষে ১০০ পাউন্ডের কেক কাটা হয়। দুপুরের পর ‘সোনালি সোপান’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করেন আহ্বায়ক ও অতিথিরা। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রকৌশলী শাহেদুজ্জামান ও চিকিৎসক রবিউল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্‌যাপন কমিটির সদস্যসচিব শামসুল হুদা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবদুল মালেক আখন্দের বয়স এখন প্রায় ১০০। তিনি ১৯৪৫ সালে এসএসসি পাস করেছেন। নিজের বিদ্যাপীঠের শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠান মাঠে বসে দেখছিলেন। সঙ্গে আছেন তাঁর সন্তানরা। আবদুল মালেকের পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে সবাই এই বিদ্যালয়ে পড়েছেন। শুধু সন্তানরাই নয়, তাঁর নাতি-নাতনিদের অনেককে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তাঁরাও এসেছেন শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে।

আবদুল মালেক আখন্দ বলেন, ‘আমাদের সময় বিদ্যালয়ে ভাঙাচোরা টিনের ঘর ছিল। এমন বড় দালান, পড়ালেখার এত সুবিধা তখন আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমার ব্যাচের কোনো বন্ধু বেঁচে আছে কি না জানি না। আমার বয়সও এখন শত বছর। বলতে গেলে আমার বয়স আর স্কুলের বয়স প্রায় সমান। দোয়া করি, এই প্রতিষ্ঠান যেন হাজার বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠ, শ্রেণীকক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দলে দলে মিলিত হয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। অনেকে পুরোনো সহপাঠীদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন। কেউ একা, কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে তাদের আনন্দ-উল্লাস দেখা গেছে। কেউ কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত, কেউ কেউ মঞ্চে গিয়ে গানও গেয়েছেন।

১৯৮৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোসা. শাহানা আক্তার এখন গৃহিণী। তিনি বিদ্যালয়ে এসে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমাদের ব্যাচে ১০৩ জন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। আজ এখানে এসে ৩০ বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে। কী যে ভালো লেগেছে, বোঝাতে পারব না! মনে হচ্ছিল, পুরোনো দিনে ফিরে গেছি। বারবার মনে হয়, সেই সময়টায় যদি আরেকবার যেতে পারতাম!’

১৯৮৩ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘অনেক দিন পর বন্ধুদের কাছে পেলাম। দেখা হলো বড় ভাই ও ছোট ভাইদের সঙ্গে। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সহপাঠীদের কাছে পেয়ে পুরোনো দিনে ফিরে গেছি। আজকের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন